Sylhet Today 24 PRINT

টিসিবি’র সেবা বঞ্চিত সিলেটবাসী : ১০২ জন ডিলারের মধ্যে ৮১ জনই পণ্য উত্তোলন করেন নি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২১ জুন, ২০১৫

ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্যের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিলেটের ক্রেতা ও বিক্রেতারা। পণ্যের নিন্মমানের সিলেট জেলার ১০২ জন ডিলারের মধ্যে ৮১ জন ডিলারই পণ্য উত্তোলন করেননি। ফলে টিসিবি’র সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিলেটের নিন্মমানের আয়ের মানুষ।

তবে টিসিবি’র কর্মকর্তারা পণ্যের নিন্মমানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বাজার দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকায় এবার টিসিবি’র পণ্যের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

রমজান মাসে ডাল, ছোলা, তেল, চিনিসহ কয়েটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে নায্য মূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেয় টিসিবি। তবে রবিবার সিলেট নগরী ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ডিলারই টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করছেন না। ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় এবার তারা পণ্য উত্তোলন করেননি বলে জানান ডিলাররা। সিলেটে টিসিবি’র ৫ জন ভ্রাম্যমান ডিলরার থাকলেও শনিবার মাত্র একজন ডিলারকে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করতে দেখা যায়।

সাধারনত: নগরীতে বন্দরবাজার, গোটাটিকর, কদমতলী, এয়াপোর্ট সড়ক ও রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশ এলাকায় ভ্রাম্যমান ট্রাকে করে টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা হলেও এবছর কেবল নগরীর বন্দর বাজার এলাকায় একটি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, নিম্নমানের পণ্য আর বিক্রয়কেন্দ্রের অপ্রতুলতায় এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। টিসিবি’র চিনির মান সবচেয়ে খারাপ বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। আর ডিলাররা বলছেন, নিম্নমানে চিনি আর সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমান কম থাকায় টিসিবি’র পণ্যর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ক্রেতারা। ফলে এবার পণ্য উত্তোলন করেননি তারা।

রবিবার নগরীর সিটি পয়েন্টে প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে ক্রেতাদের ভিড় ছিলো টিসিবির একটি ভ্রাম্যমান বিক্রয়কেন্দ্র ঘিরে। পুরো নগরীর এই একটিমাত্র ভ্রাম্যমান বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ক্রেতাদের পণ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে রীতিমত প্রতিযোগিতা করে।

শরিফুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, টিসিবি’র তেল, ছোলা আর ডালের মান ভালো। দামও কম। এই পণ্যগুলো বাজারমূল্য থেকে কেজিপ্রতি গড়ে ৫ টাকা করে কম দরে কেনা যাচ্ছে। তবে টিসিবি'র চিনির মান খুব খারাপ। লালচে রংয়ের নিন্মমানের চিনি বিক্রি করা হচ্ছে।

টিসিবি'র ডিলাররাও চিনির মান ভালো নয় বলে জানিয়েছেন। টিসিবি'র পণ্যের ডিলার বিজয় দাশ জানান, ট্রাকপ্রতি ৩০০ কেজি দেশীয় চিনি বাধ্যতামূলক করে দেয়ায় অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন তারা। চিনির রং লালচে হওয়ায় ক্রেতারা তা কিনতে চাইছেন না।

নগরীরর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় ডিলার সমর জানান, সাত মাস পর তাদের পণ্য দেয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় কম পরিমান পণ্য সরববাহের অভিযোগও করলেন এই ডিলার। তাদের দাবী, এসব পন্যের চাহিদা থাকায় প্রতিমাসে সরবরাহ হলে ক্রেতাবিক্রেতা উভয়ই লাভবান হতেন। রমজানের পণ্য তালিকায় খেজুর, পেঁয়াজ, আদাসহ মসলাসামগ্রী যোগ করার দাবী জানান তিনি।

গোটাটিকর এলাকার ডিলার আসাদ আহমদ বলেন, পণ্যের মান খারাপ থাকায় ক্রেতারা কিনতে চায় না। ফলে টিসিবি’র পণ্য এনে লাভের বদলে উল্টো লোকসান গুণতে হয়। এ জন্য এবছর পণ্য উত্তোলন করিনি।

এ ব্যাপারে টিসিবি’র সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়’র কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এবছর রমজানে বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক। পণ্যের মানও ভালো।

চিনি’র নিন্মমানের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, টিসিবি’র চিনি খুবই ভালোর মানের। দেশীয় আখ দিয়ে তৈরি। কিন্তু একটু লালচে ধরনের হওয়ায় সবাই এই মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ডিলারদের পণ্য উত্তোলন না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার রমজানে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। তাই ডিলাররা খুব বেশি লাভ করতে পারছে না। এজন্য তারা টিসিবি’র পণ্য বিক্রিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাম্মনবাড়িয়া জেলা মিলিয়ে এ অঞ্চলে মোট ডিলার রয়েছেন ২৮২ জন। এরমধ্যে সিলেট জেলায় ১০২ জন ডিলার রয়েছেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যে চাহিদা ও যোগানের টানাপোড়েনে যাতে মূল্যবৃদ্ধি না ঘটে; সেজন্য বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। মাসজুড়ে টিসিবি’র সবকটি ভাম্যমান বিক্রয়কেন্দ্র চালু রাখতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.