Sylhet Today 24 PRINT

হাওরের বাঁধ কেটে মাছ শিকার, ৮৮ গ্রামের ফসল হুমকিতে

বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ১

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২৭ এপ্রিল, ২০১৮

তাহিরপুরে মাছ ধরতে টাঙ্গুয়ার হাওরের নাওটানা ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দেয়ার হুমকিতে পড়েছে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৮৮ টি গ্রামের কৃষকদের বোরো জমি। ফসলরক্ষা বাঁধ কাটার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে তাহিরপুর থানায় মামলা করেছেন টাঙ্গুয়া হাওরের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৯০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এঘটনায় আনোয়ার হোসেন নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তাহিরপুর থানা পুলিশ।
 
মামলার আসামীরা হলেন, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হুকুমপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আরিফ মাঝি (২২), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), দিল হুসেনের ছেলে মিজানুর রহমান (২৭), আলী হোসেনের ছেলে বকুল মিসয়া (৩০), সুলতান মিয়া (২৬), দুমাল গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩০) ও তার ভাই রফিকুল ইসলাম (৩২), লামাগাঁও গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে পাবেল মিয়া (৩২)।

প্রসঙ্গ, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে মাছ শিকারীরা টাঙ্গুয়ার হাওরের বোরো ফসলরক্ষা নাওটানা বাঁধটি কেটে দেয়। ফলে সীমান্তের টেকেরঘাট থেকে নেমে আসা পাটলাই নদীপাড়ের গোলাভারি গ্রামের কাছ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে টাঙ্গুয়ার হাওরে। পানিতে প্লাবিত হচ্ছে ধর্মপাশা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বংশিকুন্ডা এবং তাহিরপুর উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮৮ গ্রামের কৃষকের জমি। টাঙ্গুয়ার হাওরের এরালিয়াকোনা, গনিয়াকুরি, লামারগুল, টানেরগুল, নান্দিয়া, মাজেরগুল, টুঙ্গামারা, সুনাডুবি, গলগলিয়া, শামসাগর, রাঙামাটিয়াসহ ছয় কুড়ি বিলের পাড়ে এবং কান্দায় রয়েছে এসব জমি। এভাবে পানি ঢুকা অব্যাহত থাকলে হাওরের সকল জমিই ডুবে যাবার আশংকা করছেন কৃষকরা।

বাঁধ নির্মাণকারী সংগঠন টাঙ্গুয়ার হাওর সমাজভিত্তিক টেকসই ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুছ ছত্তার জানালেন, পাটলাই নদীর জেলেরাই বেশি মাছ ধরার লোভে এই বাঁধ কাটতে পারে।

টাঙ্গুয়া হাওরের সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম বলেন, ‘বাঁধটি কে বা কারা রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে তা এলাকার কেউ বলতে পারছেন না। তবে অসৎ জেলেরাই মাছ মারার উদ্দেশ্যে বাঁধটি কেটেছে।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘হাওরে পানি প্রবেশ ঠেকানো না গেলে ৬ থেকে ৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বাঁধ কেটে দেয়ার ঘটনায় দুইটি উপজেলার অন্তত ৮৮টি গ্রামের কৃষকদের বোরো জমি চরম হুমকিতে পড়েছে।’

তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘মাছ শিকারা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এতে হাওরের ৪-৫ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান তলিয়ে গেছে। ৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.