সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৮ এপ্রিল, ২০১৮
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক, সিলেটের কৃতি সন্তান মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চলতি বছর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) ২০১৮ লাভ করায় তাকে দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে মরণোত্তর সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় চেম্বার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান।
সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত গুণাবলী দিয়ে সিলেটবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি একাধারে সফল কূটনীতিক এবং দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ছিলেন। সিলেটের উন্নয়নে মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ভূমিকা অগ্রগণ্য, বিশেষ করে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের উন্নয়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে তাঁর পশ্চিম জার্মানির বাসায় নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন। মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরষ্কার ২০১৮ প্রদান করায় তিনি বর্তমান সরকার এবং এ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সিলেট চেম্বার নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সভায় মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অবদান ও তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) ফয়ছল মাহমুদ।
সভায় মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পরিবারের পক্ষে সংবর্ধনা গ্রহণ করেন এবং তার বর্ণাঢ্য জীবনের উপর স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর ভাতিজা ইমরান রশীদ।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, সিলেট অন্ত:প্রাণ মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে আধুনিক সিলেটের রূপকার বললে অত্যুক্তি হবে না। সিলেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রায় তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখেছেন তা অতুলনীয়।
তিনি সিলেট চেম্বার কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিলেটের কৃতি সন্তান হিসেবে মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাকেও সিলেটের উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, গ্যাস সংযোগ পুনরায় চালু করা, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রিন চ্যানেল চালু ও যাত্রীদের সাথে আগত পরিবার-পরিজনদের বসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।
সভায় মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কর্মময় জীবন, সাফল্যগাঁথা ও তার আদর্শ নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিলেট চেম্বারের সহসভাপতি মো. এমদাদ হোসেন। চেম্বারের সিনিয়র অফিসার মিনতি দেবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সদস্য মুহিউল ইসলাম চৌধুরী মনসুর। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর পরিচালক সালাহ্ উদ্দিন আলী আহমদ ও স্টেশন ক্লাবের সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক মো. হিজকিল গুলজার, জিয়াউল হক, পিন্টু চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম, মুশফিক জায়গীরদার, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, মোঃ আব্দুর রহমান (জামিল), আলহাজ্ব মো. আতিক হোসেন, মুজিবুর রহমান মিন্টু, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আসমা কামরান, বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম জীবন কৃষ্ণ রায়, জনতা ব্যাংকের ডিজিএম আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, বাসস সিলেট এর ব্যুরো প্রধান মকসুদ আহমদ মকসুদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শাহ্ আলম, সাবেক পরিচালক মো. বশিরুল হক, মুজিবুর রহমান মানিক, বদর উদ্দিন বদর, মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আবু তালেব মুরাদ, জাফর উদ্দিন চৌধুরী, ড. মো. আব্দুল করিম, এম.এ. হান্নান সেলিম, গোলাম রব্বানী ফারুক আব্দুস সামাদ নজরুল, সালাউদ্দিন চৌধুরী বাবলু, আনোয়ার হোসেন সেলিম, আব্দুল বাছিত সেলিম, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ করিম চৌধুরী, মো. হাবিবুর রহমান, আব্দুস সালাম, মো. কামাল আহমদ, কামরুল ইসলাম কামরুল, ইন্দ্রানী সেন, মো. ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী রাজীব, মো. আবুল কালাম, তাজুল ইসলাম, মো. আনোয়া হোসেন, মহসিন আহমদ চৌধুরী, মোশারফ হোসেন, গোলাম আক্তার ফারুক, নূরানী জাহান কলি, সানু উদ্দিন রুবেল প্রমুখ।