নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ মে, ২০১৮
সিলেট বিভাগের তিন জেলায় গত দুইদিনে বজ্রপাতে ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৩ জন ও সিলেট ২ জন মারা যান। গত মঙ্গল ও বুধবার এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গত দুদিন ধরে সারাদেশেই ঝড়োবৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সাথে বেড়েছে বজ্রপাতের ঘটনাও। সিলেটের হাওরাঞ্চলে গত কয়েকবছর ধরে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। খোলা জায়গা হওয়ায় হাওর এলাকায় বজ্রপাত বেশি হয় বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
গতকাল বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং ও নবীগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান তিন কৃষক। এতে আহত হন আরও দুই কৃষক।
নিহতরা হলেন- বানিয়াচং উপজেলার মকা গ্রামের ছাইম উল্লার ছেলে আজিম উদ্দিন (৪০), একই উপজেলার বল্লবপুর গ্রামের তাহির মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া (৩০) ও নবীগঞ্জ উপজেলার রুকনপুরের আব্দুল জব্বার (৫০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার মকার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আজিম উদ্দিন (৪০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময়ে উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের রোকন দিয়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান শাহিন মিয়া (২৫)। মৃত্যু হয়। এ সময় আহত হন আরও দুই কৃষক। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার দুপুরেই জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার রুকনপুরে বজ্রপাতে আব্দুল জব্বার (৫০) নামে আরেক কৃষক মারা যান। দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাত শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এদিকে, আগেরদিন মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুর ইউনিয়নের উপর বড়াই গ্রামের পাশে হাওরে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় তামিম (১২) ও সালমান (১৩) নামের দুই শিশু।
কানাইঘাট থানার উপর পরিদর্শক (এসআই) স্বপন সরকার জানান, উপর বড়াই গ্রামের পাশ্ববর্তী হাওরে মঙ্গলবার সকালে ধান কাটতে গিয়েছিলেন এই গ্রামের বাসিন্দা করিম আলী। দুপুর ২ টার দিকে করিম আলীর ছেলে তামিম বাবার জন্য ভাত নিয়ে হাওরে যায়। সাথে করে বন্ধু সালমানকে নিয়ে যায় তামিম। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে প্রাণ হারায় তামিম ও সালমান।
এরআগে মঙ্গলবার সকালে সুনামগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও দুইজন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ (৪৫), জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের খোজারগাঁও গ্রামের কমলাকান্ত তালুকদার (৬০), বিমখালি ইউনিয়নের কলকতা গ্রামের হিরণ মিয়া (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের মেরুয়াখলা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে আলম মিয়া (৫০)।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লা বলেন, মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ দুপুরে বাড়ির পাশে কাজ করছিলেন। দুপুরের একটু আগে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আল ইমরান বলেন, মঙ্গলবার কমলাকান্ত তালুকদার তার দুই ছেলে প্রিন্স (২০) ও সৈকতকে (১৪) নিয়ে গ্রামের পাশে হাওরে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই কমলাকান্ত মারা যান। আহত হন তার দুই ছেলে। এছাড়া উপজেলার বিমখালি ইউনিয়নের কলকতা গ্রামের হিরণ মিয়া নামের আরও একজন বজ্রপাতে মারা যান।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মনির হোসেন জানান, উপজেলার খরচার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়ে আলম মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি বজ্রপাতে মারা গেছেন।