গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৫ মে, ২০১৮
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ইমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মসজিদ কমিটি জরুরি বৈঠকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির জরুরি সভায় মসজিদের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম সভায় উপস্থিত সকলকে লিখিতভাবে মুয়াজ্জিন ইমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে মসজিদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চরম অবহেলা, নানা রকম শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড, অন্ধকারে মসজিদের পুকুর থেকে মাছ চুরি করা, উপজেলা পরিষদের ভিতরে থেকে গাছ চুরি করে বিক্রি করা, উপজেলা পরিষদের বাহিরে বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে টিভি দেখা, আড্ডা দেওয়া, মসজিদের যে কোন জিনিস ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য ভাউচারে ধরে উপস্থাপন করা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাংলোতে অবৈধভাবে বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। এসব অভিযোগ উপস্থাপন করলে সভায় কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, আমি অনেক সময় মুয়াজ্জিন ইমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে বিভিন্ন অভিযোগ পেলে তাকে সতর্ক করি। তারপরও সতর্ক না হলে মসজিদ কমিটির সকলকে অবহিত করে এবং সকলের সর্ব সম্মতি ক্রমে তাকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মতিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সত্য বলে জানান।
অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন ইমান উদ্দিন জানান, মাছ আমি চুরি করিনি, আমি সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের অনুমতি ক্রমে দিনের বেলায় মাছ শিকার করেছি।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি বাংলোতে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের অনুমতি নিয়ে বাংলোতে বসবাস করেছি। তিনি বাকি অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট বলে দাবি করে।
ইমান উদ্দিন আরও বলেন,আমাকে চাকুরী থেকে বের করে দিতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।