কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ১২ মে, ২০১৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল পতনউষার ও মুন্সীবাজার এলাকার কেওলার হাওরে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে সয়লাব হয়ে পড়েছে। লাঘাটা ও পলক নদীতে অবৈধ বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা এবং নানা জাতের জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে উজানের পাহাড়ি ঢল নেমে হাওর ও নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল কেওলার হাওর, মকাবিল সহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে সয়লাব হয়ে পড়ছে। একশ্রেণীর মাছ শিকারি চক্র প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এভাবে হাওর ও জলাধারকে কেন্দ্র করে শত শত কারেন্ট জাল ফেলে মাছ শিকার করছে। মাছের সাথে কারেন্ট জালে ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। স্থানীয় হাটবাজারেও প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে পতনঊষারে লাঘাটা নদীর গোপীনগর এলাকায় অবৈধ দুটি বাঁশের খাঁটি (বেড়া) ও পলকীর পার এলাকায় পলক নদীর উপর পাঁচটি বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ এসব বাঁশের খাঁটি স্থাপন করার ফলে পানি নিষ্কাশন ও মাছের অবাধ গতিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। বাঁশের খাঁটির সাথে স্থাপিত মাছ ধরার খাঁচায়ও (পারন) কুচিয়া, সাপ সহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণি ধরা পড়ছে এবং মারা যাচ্ছে।
পতনঊষারের সমাজকর্মী ইকবাল হোসেন তালুকদার, মাইদুল ইসলাম সহ স্থানীয়রা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে কেওলার হাওরে অবাধে কারেন্ট জালের ছড়াছড়ি শুরু হয়। একইভাবে লাঘাটা ও পলক নদীতে অসংখ্য বাঁশের খাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন, মাছের অবাধ প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়ায় দীর্ঘ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সম্প্রতি শমশেরনগর বাজারে কারেন্ট জাল বিক্রির দায়ে অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাছাড়া কারেন্ট জাল ও বাঁশের খাঁটি বিষয়েও অভিযান পরিচালনা করা হবে।