Sylhet Today 24 PRINT

কোচিং বাণিজ্যে সিলেটের ২১ শিক্ষক!

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৭ মে, ২০১৮

সিলেটের ২১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি ২১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ওই গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রতিবেদনে এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পাঠদান না করানো, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে কোচিং বাণিজ্য, ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর সহযোগিতার আশ্বাসসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ একাধিক শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অভিযুক্তরা হলেন- সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক ইকবাল মাসুদ, ইসলাম শিক্ষার হুমায়ুন কবির, কৃষিশিক্ষার আশরাফুর রহমান, গণিতের কাজল মালাকার, ফৌজিয়া আক্তার, আবু রায়হান, আবুল খায়ের ও মহিম লাল নাথ, বাংলা বিভাগের বিপ্লব নন্দি, ইংরেজির আ ন ম আবু সুফিয়ান।

সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক গণিতের নেপুর চন্দ্র পাল, বাণিজ্য শাখার ঝলক রঞ্জন তালুকদার, ইংরেজির সাগরিকা গুপ্ত, আবু ইউসুফ মো. সহিদ, গণিতের সুপ্রতিম রায় ও ভৌত বিজ্ঞানের গোলাম দস্তগীর; কানাইঘাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক আবদুস শুকুর; জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক খলিলুর রহমান, ইংরেজির তৈয়বুর রহমান, জীববিজ্ঞানের আবদুল ওয়াহিদ ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা আইন ভঙ্গ করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখার মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় লেখাপড়ার মান যথেষ্ট উন্নতি হলেও সিলেটে বিরাজ করছে তার উল্টো চিত্র। এ অঞ্চলের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার অভাবে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জকিগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমার এখানে কোচিং নেই, অন্য জায়গায় থাকলে তা আমার জানা নেই।

জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে গণিতের শিক্ষক ফৌজিয়া আক্তার বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে অন্য বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারেন। অন্য অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপ পরিচালক জাহাঙ্গির কবির আহমদ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.