সিলেটটুডে ডেস্ক | ৩১ মে, ২০১৮
সিলেটের কানাইঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরকে প্রশ্রয় দিয়ে নিরীহ মানুষকে মিথ্যে মামলায় হয়রানও নিপীড়নের অভিযোগ ওঠেছে।
সম্প্রতি উপজেলার পারচরি পাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে ওসি আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ তোলার পর বুধবার সকালে গাছবাড়ি এলাকায় এক মানববন্ধনে একই অভিযোগ আনা হয়।
গাছবাড়ি আগফৌদ নারায়নপুর গ্রামে আয়োজিত এ মানববন্ধনে আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, গ্রামের বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান, এখলাছ, জামায়াত নেতা ইয়াহিয়া, ইন্দাজ, আব্দুল মালিক, আব্দুল মতিনগং গ্রাম্য ফান্ডের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে। এতে গ্রামের লোকজন টাকার হিসাব চাইলে তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নির্যাতন, হামলা ও থানায় মামলা করে। এতে আমরা প্রতিবাদ করলে উল্লেখিত মাতাব্বর নামধারী ব্যক্তিসহ সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে এসে ছয়টি ঘর পুড়িয়ে দেয়। এতে থানায় মামলা করতে গেলে ওসি উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা নেন। পরে আমাদের মামলাটি রেকর্ড করলেও বর্তমানে তা তুলে নিতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
বক্তব্যে গাছবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক বাউলা বলেন, ওসি আব্দুল আহাদ বিএনপি-জামায়াত-শিবিরকে প্রশ্রয় দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একর পর এক মিথ্যো মামলা রেকর্ড করছেন। তারা এর প্রতিকার চাইলে উল্টো তার ওপর নেমে আসে হয়রানি ও নির্যাতন। এভাবে তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মিথ্যে মামলা রেকর্ড করেন ওসি।
একই গ্রামের আজির উদ্দিন বলেন, থানা পুলিশ এতই পক্ষপাতিত্ব করছে যে, গত ২৮ মে নবম শ্রেণীর ছাত্র ইসমাইলের সাথে প্রতিপক্ষ এক যুবকের কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তারা পুলিশ এনে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ঘর তল্লাশি করে। ওই স্কুল ছাত্র কে না পেয়ে বাড়ি থেকে রোমানা বেগম ও মনোয়ারা বেগম নামের দুই মহিলাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ওসির নির্দেশে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ তাদের বাড়ি-ঘরে গিয়ে তল্লাশির নামে আতংক ছড়াচ্ছে। এ থেকে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও রেহাই পাচ্ছে না। বুধবার দুপরেও ৮টি মোটরসাইকেলে ১৬ জন পুলিশ গিয়ে তাদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আলাউদ্দিন, বদরুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, সামসুল ইসলাম, ইসরাফ আলী, শহীদ, আমিনসহ অন্তত পাঁচশতাধিক নারী-পুরুষ। মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।