মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ০৪ জুন, ২০১৮
মৌলভীবাজারে রাজনগরে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম রাশেদা বেগম (৩০)। তাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এই মামলায় আসামী আবারক মিয়া।
রোববার (৩ জুন) বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গণধর্ষণ শেষে রাশেদাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আবারক মিয়া।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের (৩০) মোবাইল ফোনের সূত্রে পরিচয় ছিল গ্রেপ্তারকৃত আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের এক যুবকের সঙ্গে। এর সূত্র ধরে বেশ কয়েকবার তাদের দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে। গত বুধবার তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌলভীবাজার আসেন রাশেদা বেগম। বুধবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের ওই যুবককে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন রাশেদা। এসময় ওই যুবক আবারক মিয়াকেও ফোন করে রাজনগর নিয়ে আসেন। রাশেদাকে নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী মাছুয়া নদীর ধার ঘেঁসে পশ্চিম দিকে যেতে থাকেন। এসময় দক্ষিণ খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে নদীর ধারে এসে ওই যুবক রাশেদাকে কু-প্রস্তাব করেন। এতে সে রাজি না হওয়ায় উভয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ধর্ষকরা। পরে লাশের সঙ্গে ইট বেধে নদীর অল্প পানিতেই তলিয়ে দেয় রাশেদার লাশ।
এ ঘটনায় রাশেদার ভাই আব্দুল খালিদ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছেন। মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবারক মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত রাশেদা বেগম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে।
গ্রেপ্তারকৃত আবারক মিয়া (২২) উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মজম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে।
এদিকে নিহতের ভাই মামলায় উল্লেখ করেছেন পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে রাশেদা বেগম ধান কেনার জন্য এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকার ধান কেনার কথা ছিল। তবে নিহতের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেনি আসামী আবারক মিয়া।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে রাজনগর থানা পুলিশ দক্ষিণ খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিমে মাছুয়া নদী থেকে ভাসমান এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের খবর পেয়ে নিহতের ভাই রাজনগর থানায় এসে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, নিহতের ভায়েরা লাশ নিয়ে গেছে। মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে আবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।