হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৫ জুন, ২০১৮
হবিগঞ্জে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এস’র সহকারি জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনের উপর চালানো নির্যাতনের প্রতিবাদে ৪ দফা দাবিতে পুলিশের সকল অনুষ্ঠান ও সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। সোমবার (৪ মে) দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় এ ঘোষণা দেন জেলা শহরের কর্মরত সাংবাদিকরা।
এ চার দফা দাবিরগুলো হলো- ইউকে ভিত্তিক চ্যানেল এসের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদেরকে প্রত্যাহারসহ শাস্তি। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার। জীবনের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও পুলিশ সুপার কর্তৃক সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। সোমবার পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশ প্রশাসনের ইফতার মাহফিল বর্জনের মধ্য দিয়ে এ ঘোষণা বাস্তবায়ন শুরু হয়।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শামীম আহসান, সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান, সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, সাবেক সভাপতি শুয়েব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা রফিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, ক্লাব সদস্য ফরহাদ চৌধুরী, শরীফ চৌধুরী, সায়েদুজ্জামান জাহির, এমএ হালিম, এম এ মজিদ, প্রদীপ দাশ সাগর, শাকিল চৌধুরী, পাবেল খান চৌধুরী, এমদাদুর রহমান সোহেল, নুরুল হক কবির ও বদরুল আলম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৩১ মে) রাতে মিথ্যা অভিযোগে ইউকে ভিত্তিক চ্যানেল এসের সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে ধরে এনে থানায় রাতভর বেধড়ক মারধর করে পুলিশ। এমনকি তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে করা হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। দেয়া হয় মোমবাতির ছ্যাঁকা। পরে তার বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় শনিবার (২ জুন) দুপুরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করেন জেলা। পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার (৩ জুন) জীবন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।