দেবকল্যাণ ধর বাপন | ০৭ জুন, ২০১৮
সারাদিন অসহনীয় গরম আর যানজট। দুইয়ে মিলে নাকাল নগরবাসী। সোমবার সকাল থেকে গরমের তীব্রতাও বেশ বেড়েছে। এ মুহূর্তে বাতাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও রোদের তীব্রতায় গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি। পরিবেশ হয়ে উঠছে অসহনীয়। রমজানে মাসে এরম গরম আর যানজটে অসহনীয় হয়ে উঠেছে নগরজীবন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৭ জুন) বেলা ১২টা পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানা যায়। এদিকে বুধবার সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন ছিল ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, সিলেট ও তাঁর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আগামী ২-৩ দিন অব্যাহত থাকবে।
এ অবস্থায় গরম আর যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অফিসফেরত ও ঘরমুখো মানুষদের। সকাল থেকে ছোট-বড় সব সড়কে নগরীতে অসহনীয় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
দুপুর থেকেই সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জিন্দাবাজার নেহার মার্কেটের সামনে থেকে জল্লারপার পয়েন্ট পর্যন্ত যানজটের কারণে বেশ কিছু গাড়ি আটকা পড়তে দেখা যায়। তাছাড়া, নগরীর শিবগঞ্জ এবং এম.সি কলেজ সংলগ্ন টিলাগড় পয়েন্টেও দুপুরের দিকে যানজট দেখা যায়।
তীব্র গরমে ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে আধ ঘণ্টার মতো। বিশেষ করে অফিস শুরু এবং ছুটির সময়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। সব মিলিয়ে রাস্তায় নামলেই নাভিশ্বাস উঠছে নগরবাসীর।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সাঈদ আহমেদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাসে খরতাপূর্ণ আবহাওয়া থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এ বছর বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কম ছিল। গত দুইদিন যাবত বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রে নিম্নচাপের কারণে এবছর সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি কম হওয়াতে গরমটা বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বৃষ্টি শুরু হলেই সিলেট নগরীসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে আসবে।
সিলেট মহানগর ট্রাফিকের সহকারী উপ পুলিশ কমিশনার নিকুলিন চাকমা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরো আমরা ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছি। তবে সিলেটের বিতানগুলোতে যথাযত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় এবং যত্রতত্র গাড়ী পার্কিংয়ের ফলেই এ যানজট দেখা দেয়।
তিনি বলেন, নগরীর এ যানজট নিরসনে আমরা আমাদের তরফ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি নগরীর বিপণী বিতানগুলোর পক্ষ থেকেও য্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে এ যানজট নিরসনে।