দেবকল্যাণ ধর বাপন | ০৯ জুন, ২০১৮
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সিলেট নগরীতে জমে ওঠেছে ঈদের কেনাকাটা। প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই বিপণি বিতানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
ঈদের কেনাকাটাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে নগরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরীর বিপণি বিতান, গুরুত্বপূর্ণ মোড় আর সড়কগুলো বসানো হয়েছে বিশেষ টহল।
ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করতে প্রতিটি বিপণি বিতানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি নগরজুড়ে মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ সদস্য।
চুরি-ছিনতাই ঠেকানোর পাশাপাশি নরগবাসী যেন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে জন্য বিপনীবিতানগুলোতে দেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। নারীদের যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয় এজন্য সকল বিপণী বিতানেই রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য এ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে বলে পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ সদস্যই মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলেও জানান এই দুই বাহিনীর কর্মকর্তারা।
ঈদ মৌসুমে সিলেট নগরীর নিরাপত্তা বিষয়ে র্যাব-৯ সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মনিরুজ্জামান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি। এছাড়াও রয়েছে রয়াবের স্পেশাল টহল ব্যবস্থা। ঈদ মার্কেটের কেনাকাটা ও নগরবাসীর ঘরে ফেরা নিরাপদ করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যে র্যাবের নিয়মিত টহলদলের পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাব সদস্যরা মাঠে নেমেছেন এবং নজরদারি শুরু করেছেন। ঈদকে সামনে রেখে ও ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করতে নগরীর সকল মার্কেট ও শপিংমল কেন্দ্রিক নিরাপত্তার পাশাপাশি টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। রয়েছে মোটর সাইকেল টহলদলও।
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, অফিসারসহ সব মিলিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ১শ’ জন র্যাব সদস্য ঈদের আগের চাঁদ রাত পর্যন্ত নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়াও ঈদের জামাত গুলতে থাকছে সাদা পোশাকের র্যাব।
ঈদ এলেই নগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠে ছিনতাইকারী চক্রসহ অন্য অপরাধীরা। ছিনতাইয়ের শিকার হন কেনাকাটা করতে বের হওয়া সাধারণ ক্রেতারা। এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতায় এসএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হিসেবে মার্কেট ও শপিংমলের প্রতিটি অংশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। ঈদ কেনাকাটায় বড় অঙ্কের টাকা আনা-নেয়ার জন্য রয়েছে পুলিশের ‘মানি এস্কর্ট’ ব্যবস্থা।
মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক পাহারায় নারী পুলিশের বিশেষ দল থাকছে উল্লেখ করে মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, মার্কেটে ইভটিজিং প্রতিরোধে কাজ করছে বিশেষ ইউনিট। মার্কেটের সামনে যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে কমিউনিটি পুলিশ ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক দল।
রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ঠিক কতজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন তা নিশ্চিত করে জানাতে না পারলেও তিনি বলেন, রাতে ঈদ কেনাকাটার পর নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে রয়েছে টহল পুলিশের একাধিক দল। শপিংমলের অধিক জনসমাগমস্থলে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞান-মলম পার্টি প্রতিরোধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে সাদা পোশাকের পুলিশ।
ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন আর ক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বড় বড় ফ্যাশন হাউস ও মার্কেটগুলোর সামনে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
মহানগর পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সকল মার্কেট মালিকদের তাদের নিজ নিজ মার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। মার্কেটগুলোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের কেনাকাটা করতে পারে।
ওয়াহাব বলেন, ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে মানুষ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে টাকা-পয়সা উত্তোলন করতে পারে।