মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ২৬ জুন, ২০১৮
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং- বি-৭৭) এ ত্রিবার্ষিক নির্বাচন-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মাখন লাল কর্মকার সভাপতি ও রামভজন কৈরী সাধারণ সম্পাদক পুননির্বাচিত হয়েছেন।
রোববার (২৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের ২০টি উপজেলার ৭টি ভ্যালির ২২৮টি চা বাগান ও ফাঁড়ি বাগানসমূহে কঠোর নিরাপত্তার ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ, ভ্যালী পরিষদ ও পঞ্চায়েত কমিটি নির্বাচনে অংশ নেন।
মোট ৯৭ হাজার ৬৩৬ জন ভোটারের মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে সংগ্রাম কমিটির সভাপতিমন্ডলী, সম্পাদকমন্ডলী প্যানেলসহ ৭টি ভ্যালী পরিষদ ও ২২৮টি পঞ্চায়েত কমিটি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর প্যানেলে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে মাখন লাল কর্মকার ৫১ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে পুনরায় সভাপতি বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রী ধনী কুর্মী ভোট পেয়েছেন ২০ হাজার ২৮৩টি। এদিকে সম্পাদকমন্ডলীর প্যানেলে ফুটবল প্রতীক নিয়ে রামভজন কৈরী ৬১ হাজার ২১৫ ভোট পেয়ে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহাসংগ্রাম কমিটির প্রার্থী গীতা রানী কানু ভোট পেয়েছেন ১৪ হাজার ৩০টি।
এছাড়াও ৭টি ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে মনু-ধলই ভ্যালি সভাপতি ধনা বাউড়ী, বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা, লংলা ভ্যালি সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, লস্করপুর ভ্যালি সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়, জুড়ী ভ্যালি সভাপতি কমল বুনার্জী, সিলেট ভ্যালি সভাপতি রাজু গোয়ালা ও চট্টগ্রাম ভ্যালি সভাপতি নিরঞ্জন নাথ বিজয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের ৯নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত তিন স্তরের নির্বাচনে বিজয়ী সংগ্রাম কমিটির সভাপতিমন্ডলী এবং সম্পাদকমন্ডলী প্যানেলটি সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় এবং ৭টি ভ্যালির কার্যকরী পরিষদে নির্বাচিত ৭ জন সভাপতি, ৭ জন সহসভাপতি ও ৭ জন সম্পাদক এবং বালিশিরা ভ্যালির একজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত মোট ২২ জনকে নিয়ে নির্বাচনী বিধিমালা-২০১৮ এর ২৯নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়েছে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শিবনাথ রায় স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে।
এতে বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মাখনলাল কর্মকার, কার্যকরী সভাপতি বৈশিষ্ঠ তাঁতী, সহসভাপতি পংকজ কন্দ, সহসভাপতি (নারী) জেসমিন আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, সহসাধারণ সম্পাদক (মহিলা) রেখা বাকতি, অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দি, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনা বাউড়ী, মো. শহিদুল ইসলাম, রবীন্দ্র গৌড়, কমল বুনার্জী, বিজয় হাজরা, রাজু গোয়ালা ও নিরঞ্জন নাথ এবং সদস্য গায়ত্রী-২, ডলি রানী নাইডু, উজ্জ্বলা পাইনকা, শ্রীমতি বাউরী, সবিতা গোয়ালা, কল্পনা-৪, বীনা-২, নির্মল দাস পাইনকা, সঞ্জু অধিকারী, অনিরুদ্ধ বাড়াইক, রতন তেলী, দেবেন্দ্র বাড়াইক, দেবু, যতন কর্মকার ও কর্ণ তাঁতী নির্বাচিত হয়েছেন।
এছাড়াও ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের ৯ (খ) নং অনুচ্ছেদের বিধান মোতাবেক বিজিত সভাপতি প্রার্থী লিখিত পরামর্শে ৩ জন এবং বিজিত সাধারণ সম্পাদকের লিখিত পরামর্শে ২ জনসহ মোট ৫ জনকে কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদে কো-অপ্ট করে ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।