ছাতক প্রতিনিধি | ২৮ জুন, ২০১৮
ছাতকে আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফুল ইসলাম মজুমদারের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম।
এজাহারে এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের চাচাতো ভাই বিল্লাল আহমদকে আসামী করায় থানা পুলিশ মামলা গ্রহন করেনি। অবশেষে নিহত ফারুকের স্ত্রী বাদি হয়ে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন । আদালত থানায় মামলাটি এফআইরভুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে হত্যা মামলা গ্রহন না করায় ছাতক থানার ওসিকে ৪কার্য দিবসের মধ্যে কারন দর্শানোর আদেশ দেন।
উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের পুরান মৈশাপুর গ্রামের মৃত মাষ্টার আব্দুস সাত্তারের পুত্র ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া গত শুক্রবার নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। শনিবার সকালে গ্রাম সংলগ্ন পাতলাচুড়া বিলের কচুরিপনায় পড়ে থাকা তার ব্যবহৃত জুতা ও লুঙ্গি এবং রোববার দুপুরে এ বিল থেকেই তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফারুক মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে উত্তর খুরমা ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও থানা পুলিশ এ এজাহার গ্রহন করেনি।
মামলার বাদী নিহত ফারুক মিয়ার স্ত্রী রেহেনা বেগমের অভিযোগ, মামলার এজাহার পরিবর্তন করতে বলেন থানার ওসি। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন। আসামীর নাম বাদ না দেয়ার ৫ দিনেও আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।
অবশেষে বাধ্য হয়ে নিহত ফারুকের স্ত্রী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ছাতক থানার এসআই অরূপ সাগর বাদী হয়ে একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে থানায় মঙ্গলবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের ভাই আকিক মিয়া জানান, ঘটনার পরদিন থেকেই থানায় এজাহার নিয়ে একাধিকবার যাওয়া হয়েছে। মামলার আসামীদের রক্ষা করতে থানার ওসি সে সময় থেকেই বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে নিহতের পরিবারের অজান্তেই থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এটি ওসির একটি সাজানো নাটক।
ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, ফারুক মিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় এসআই অরূপ সাগর বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম যে এজাহার থানায় দিয়েছিলেন তা পরিবর্তন করে দায়ের করার কথা বলা হলে তিনি এজাহার পরিবর্তন করে আর থানায় আসেননি বলে তিনি জানান।
অপরদিকে আ’লীগ নেতা ফারুক মিয়া হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় ও খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, শোকর্যলি, ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ছাতক উউপজেলা আ’লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার বিকালে পৌরশহরের ট্রাফিক পয়েন্টে আ’লীগের উপজেলা আহবায়ক আবরু মিয়া তালুকদারের সভাপতিত্বে ও জেলা পরিষদ সদস্য আজমল হোসেন সজলের পরিচালনায় অনুষ্টিত এ প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরি।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সুনামগ্ঞ্জ জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরি,অনুষ্টিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জয়নাল আবেদীন দলা মিয়া, নোয়ারাই ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান খালিক রাজা, ছাতক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যন ছালিক মিয়া,দোয়ারা উপজেলা আ’লীগের যুগ্ন আহবায়ক শামিমুল ইসলাম,জাউয়া আ’লীগের ইউপি সভাপতি রেজা মিয়া তালুকদার,দোলার বাজার ইউপি আ’লীগ সভাপতি আশিক মিয়া, প্রমুখ।
সমাবেশের পূর্বে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কালো ব্যজ পড়ে খন্ড-খন্ড মিছিল সহকারে লোকজন জড়ো হতে থাকে। এসময় ছাতক শহর মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে উঠে। মিছিলকারিরা ফারুকের হত্যাকারিদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।