নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ জুন, ২০১৮
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৭ জন ও বুধবার ২ জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয় মনোনয়নপত্র জমা দান।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনে একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
তবে বিএনপির সমর্থনে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বিদ্রোহী হিসেবে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত ইসলামের সিলেট মহানগরের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পৃথক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়াও সিপিবি-বাসদের আবু জাফর, ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জসিম উদ্দিন, এহসানুল হক তাহের ও মোক্তাদির হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, কামরান ও আরিফসহ মোট নয়জন মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আর সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৬৩ জন।
প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি করপোরেশনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের মোট ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার আগামী ৩০ জুলাই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বদর উদ্দিন বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি আধুনিক মহানগরী গড়তে কাজ করতে চান তিনি।
“নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাই বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধ। আশা করছি আতীতের মতো জনগণের রায় নিয়ে মেয়রের পদে আসীন হব।”
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদসহ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কামরানের সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তো রয়েছেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক দেখছি। খুলনা ও গাজীপুরের মতো পরিন্থিতি যাতে তৈরি না হয় সেদিকে নির্বাচন কমিশন লক্ষ রাখবে বলে আশা করছি।”
এর আগে বেলা ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের পদ ছাড়েন আরিফুল।
বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, শাহরিয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন।