নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ জুন, ২০১৮
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়নপত্র জমা দিতে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আসেন বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে। তার সাথে তখন ৪/৫ শ’ নেতাকর্মী। স্লোগান দিয়ে, তালি দিয়ে তারা মাতিয়ে তুলেন পুরো এলাকা। কেউ কেউ নৌকা প্রতীক নিয়েও এসেছেন কামরানের সাথে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে কামরান যখন মনোনয়নপত্র জমা দেন তখনও তাঁর সাথে শ’খানেক নেতাকর্মী। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে তখন দাঁড়ানোর জায়গাও নেই।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১১ ধারা ১ নং উপধারায় উল্লেখ রয়েছে- ‘মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শো-ডাউন করা যাইবে না বা প্রার্থী ৫ জনের অধিক সমর্থক লইয়া মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারিবেন না।’
আচরণবিধির এই বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আমি পাঁচজন নেতা নিয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছি। পথে উৎসুক অনেকে স্লোগান দিয়েছে। তারা কেউই আমার সাথে আসেননি। ফলে এতে আচরণবিধি ভঙ্গ হওয়ায় কোনো সুযোগ নেই।
বিকেলের দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর সাথেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে আসেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
এ ব্যাপারে আরিফ বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আমার সাথে পাঁচজন নেতাই রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। কিন্তু আজকে কাউন্সিলর প্রার্থীসহ অনেকেই মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছেন। তাদের কারণেই এখানে ভিড় জমে গেছে।
আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন জানিয়ে আরিফ বলেন, তবে একেকজন প্রার্থীর জন্য আচরণবিধি একেক রকমের যেন না হয়।
তবে মনোনয়নপত্র জমাদানকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান।
তিনি বলেন, আজকে দুই শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে কেবল প্রার্থীরা আসলেই এখানে ভিড় লেগে যাবে। একারণে কেউ মিছিল করে বা শো-ডাউন করে এসেছেন কী না তা আলাদাভাবে চোখে পড়েনি।
তবে আচরণবিধি যাতে কেউ লঙ্ঘন করতে না পারেন এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিলেট সিটি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ সিটিতে ৯জন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী সদ্যসাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও বিদ্রোহী হিসেবে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াত ইসলামের সিলেট মহানগরের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পৃথক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়াও মেয়র পদে সিপিবি-বাসদের প্রার্থী আবু জাফর, ইসলামী শাসনতন্ত্রের প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেমন হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জসিম উদ্দিন, এহসানুল হক তাহের ও মোক্তাদির হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এছাড়া নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩৭ প্রার্থী ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৬৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচন হচ্ছে। ১ ও ২ জুলাইয়ের পর ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১০ জুলাই। এ সিটি কর্পোরেশনের মোট ভোটার ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩২ জন।