Sylhet Today 24 PRINT

ছয় বছরেও শুরু হয়নি বিচারকাজ

এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পোড়ানো মামলা

শুভ ধর |  ০৮ জুলাই, ২০১৮

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাস পোড়ানোর ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ শনিবার (৮ জুলাই)। তবে এখনো শুরু হয়নি এঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কার্যক্রম।

২০১২ সালের ৮ জুলাই পোড়ানো হয়েছিলো সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাস। দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছিলেন সরকারের দায়িত্বশীলরা।

যদিও এই ছয় বছরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ছাড়া মামলাটির তেমন কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। এই ছয় বছরে পুলিশ, সিআইডি, পিআইবির হাত ঘুরে মামলাটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটির হাতেই গিয়ে পড়লে গত বছরের ১৫ নভেম্বর ২৯ জনকে চিহ্নিত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। যাদের মধ্যে ১৯ জনই ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মী। এছাড়া ১০ জন ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তরা হলেন- সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক (বরখাস্ত) সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার ( শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভ।  

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ১৯ নভেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা এই ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সে সময় তদন্তের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ছাত্রাবাস পোড়ানোর মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি ফের গ্রহণ করা হয়। ফলে সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের বিরোধের কারণেই সংঘটিত হয়েছে।

প্রথমত ছাত্রলীগের কর্মী উজ্জ্বল আহমদকে ছাত্র শিবিরের কর্মীরা গুরুতর জখম করায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণে এটা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত বলে পর্যালোচনায় বলা হয়।

তদন্ত  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ছাত্রাবাসে আগুন দিতে গ্যালনে করে পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। পরে ছাত্রাবাস কক্ষ লুটপাটও হয়।

এ ব্যাপারে এক সাক্ষী বলেছেন-‘ছাত্রাবাস যখন আগুনে পুড়ছিল, তখন রামদা উঁচিয়ে মিছিল করেছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ছাত্রাবাসের ফটকের সামনে উপস্থিত থাকলেও নীরব ছিল। পরে ছাত্রলীগের একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয় ছাত্রাবাস ফটকে’।

তবে ঘটনার ছয় বছর পরও অভিযুক্তদের মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছেন পলাতক। এছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগের ১০ নেতাকর্মী নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণ জানতে চাইলে অতিরিক্ত সরকারি প্রসিকিউটর মাহফুজুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, এই মামলায় অধিকাংশ অভিযুক্তরাই পলাতক রয়েছেন। পলাতকদের ব্যাপারে বেশ কিছু নিয়ম মেনে বিচার কাজ শুরু করতে হচ্ছে বলেই মামলার কার্যক্রম শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে।

অতি শীঘ্রই মামলার কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এই মামলায় এখন ১০ জন অভিযুক্ত জামিনে রয়েছেন।

সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আশা করা যায় দ্রুতই তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৮ জুলাই শিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রাবাসের ৩টি ব্লকের ৪২টি কক্ষ পুড়ে যায়।

এ ঘটনায় হল সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.