বড়লেখা প্রতিনিধি | ১৯ জুলাই, ২০১৮
মৌলভীবাজারের বড়লেখা-শাহবাজপুর সড়কের ১২ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১৫টি স্থানের বেহাল দশা হয়েছে। এসব স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ ওঠে কংক্রিট বেড়িয়ে পড়েছে। কোথাও আবার কিছু দূর পরপর সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ভাঙাচোরা এসব স্থান যানবাহনের জন্য হয়ে উঠছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কের বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। প্রায় এক বছর ধরে এ অবস্থা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার প্রধান ও ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩টি ইউনিয়ন, ২টি কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, ৮টি চা বাগানের পণ্য পরিবহনসহ শতশত যানবাহন ও হাজারো মানুষ আসা যাওয়া করেন। এই সড়কের সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শাহবাজপুরে রয়েছে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও বিজিবি ক্যাম্প।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা ঠিকমত কাজ করেননি। ফলে সড়কের বিভিন্ন স্থান সংস্কারের কিছু দিন পরই ভেঙে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির ঘোলষা ঠাকুরের দোকান এলাকা, ঘোলষা এলাকা, কুমারপাড়া এলাকার দুইটি স্থান, তারাদরম মসজিদ এলাকা, তারাদরম বাজার, চন্ডিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, অফিস বাজার এলাকা, শ্রীধরপুর ১ নম্বর কালভার্ট এলাকা, নয়াবাজার এলাকা, নান্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, নান্দুয়ার প্রয়াত ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন ও মজির উদ্দিনের বাড়ির এলাকা, পূর্ব দৌলতপুর মসজিদের এলাকা, পাল্লাতল রাস্তার প্রবেশ এলাকা ও উত্তর শাহবাজপুর বাজারের প্রবেশ মুখ এলাকায় সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। ওই অংশগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।
শিক্ষার্থী সুলতান আহমদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটি অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো লোকজন যাতায়াত করেন। ফলে যাতায়াতকারী লোকজনদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙা। ভাঙাচোরা রাস্তায় রাতের বেলা দুর্ভোগ বেশি হয়। বৃষ্টির দিন এখন। বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তে পানি জমে। তখন গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে রোগীদের জন্য কষ্টকর এ রাস্তায় যাতায়াত।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রুহেল আহমদ বলেন, ‘কুমারপাড়া এলাকায় ও চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে বৃষ্টি অইলে পানি জমে। এ জায়গাটি উঁচু করা দরকার। রিপেয়ারিং কাজ যে গুলা করা হয় তা ঠিক মত হয় না। অনেকদিন থেকে রাস্তাটি ভাঙাচোরা। গাড়ি চালাইতে কষ্ট হয়।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশার অপর একজন চালক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘গাড়ির অবস্থা নাই। রাস্তায় একবার কাজ করিয়া আর খোঁজ নিছে না ভাঙলোনি। রিপেয়ারিং করা লাগবোনি। শ্রীধরপুর এলাকার ব্রিজের সংযোগ স্থানে মাটি সরে যায়। আমরা ড্রাইভাররা টাকা তুলে কাজ করাই। ব্রিজটিতে কাজ করানো হয় না। আমরা মাটি দেই। কয়েকদিন গেলে মাটি নিচে দেবে যায়।’
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভূষণ পাল ১৩ জুলাই বলেন, ‘চার বছর আগে সড়কটিতে কাজ হয়েছিল। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ বছরের মধ্যে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। নিচু স্থানগুলো উঁচু করে কাজ করা হবে। যাতে বৃষ্টির পানি না জমে।’