Sylhet Today 24 PRINT

আমিনার স্বপ্ন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হওয়া

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২১ জুলাই, ২০১৮

২০০৪ সালে পিতা ঠেলাচালক আব্বাস আলী বন্যার পানির তোড়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর একবছর পর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন অদম্য মেধাবী আমিনা আক্তার। সে সময় বড় ভাই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বশির মিয়া লেখাপড়া বাদ দিয়ে মায়ের সাথে পরিবারের হাল ধরেন। মা অন্যের ঘরে ঝিয়ের কাজ করেন। মা-ছেলে মিলে জীবনযুদ্ধে এভাবে খেয়ে না খেয়ে অদম্য মনোবল নিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পৌরসভার শ্রীনাথপুর গ্রামের আমিনা আক্তার।

আমিনা গভীর রাত পর্যন্ত ভাঙা ঘরে কুপির আলোয় লেখাপড়া করতো। শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট ও কোচিং না করেই তার এ ফলাফল আনন্দপূর্ণ পরিবেশে দুঃখের প্রভাবও বটে; চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্বপ্ন আমিনার, কিন্তু দারিদ্র্যতার কারণে আমিনার সেই স্বপ্ন কি পূরণ হবে?

২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে আমিনা সবার ছোট। পিতার মৃত্যুর পর শুধুমাত্র অর্থের অভাবে বড় ভাই ও বোনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মা ও বড় ভাই পরিবারের হাল ধরেন। মা হাসনা বিবি অন্যের ঘরে ঝিয়ের কাজ ও বড় ভাই বশির মিয়া কুটির শিল্পের একটি দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। শুধুমাত্র বাড়িতে সামান্য ভাঙা বসতভিটে ছাড়া আর কোন জমিজমা নেই।

শ্রীনাথপুর গ্রামের এ কিশোরীকে এইচএসসি ভর্তির সময় নিজ গ্রামের বাসিন্দা লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আহমদ সিরাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমিনা আক্তার স্থানীয় অরফান ইন এ্যাকশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ২ বছরের জন্য তাকে শিক্ষাবৃত্তির অন্তর্ভুক্ত করেন। এ সহায়তায় আমিনা কোন রকম এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। আমিনা ভবিষ্যতে চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হতে চায়। কিন্তু চরম দারিদ্র্যতার সাথে বেড়ে উঠা আমিনার কি সেই স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হবে।

আমিনা ভবিষ্যতে একজন চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। আমিনা বলেন, ঠেলাচালক পিতার করুণ মৃত্যুর পর মা ও একমাত্র বড় ভাইয়ের প্রচেষ্টায় আমি এতদূর এগিয়ে এসেছি। তবে এসবের পরও দমে যাইনি। গভীর রাতে কুপি জ্বালিয়ে লেখাপড়া করেছি। ভালো ফল করাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল। অনেক বাধার পরও ভালো ফল করতে পেরে আমি খুবই খুশি। ভবিষ্যতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সবার আর্থিক সহযোগিতা।

কমলগঞ্জ গণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান মিঞা বলেন, 'অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমিনা এগিয়ে গেছে। ভর্তি ও ফরম ফিলাপের সময়ও আমিনাকে কলেজ থেকে সহায়তা করা হয়েছে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবকে যে সম্ভব করা যায় তার প্রমাণ রেখেছে এই শিক্ষার্থী।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.