নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৩ জুলাই, ২০১৮
‘আমরা কেন্দ্র ছাড়িব না, আমরা ব্যালট ছাড়িব না, আমরা রাজপথ ছাড়িব না, ধানের শীষে সিল মারবরে। মিছিলে মিছিলে সবাইকে জানাও, স্লোগানে স্লোগানে ভোট কেন্দ্রে যাও। আইলো আবার সিটি নির্বাচন, আরিফ ভাইকে বড় প্রয়োজন।’
কুমার বিশ্বজিতের জনপ্রিয় গান তোমরা একতারা বাজাইও না-এর সুরের আদলে নগরের সুবিদবাজার এলাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে এভাবেই মাইকিং করা হচ্ছিলো।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা মাইকিং হচ্ছে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের পক্ষে। অনেক প্রার্থীর পক্ষে গানে গানে মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে।
নগর ঘুরে দেখা যায়, এবারের সিটি নির্বাচনে মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে গতানুগতিক ধারার পরিবর্তন হয়েছে। আগে স্লোগান দিয়ে প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং করা হলেও এবার তাতে পরিবর্তন এসেছে অনেকটা। একজন সমর্থক সরাসরি মাইকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করতেন। এখন এ চিত্র তেমন লক্ষণীয় নয়। এবার মাইকিংয়েও লেগেছে ডিজিটাল ছোঁয়া । জনপ্রিয় সব গানগুলোর সুর ঠিক রেখে কথাগুলোর জায়গায় প্রার্থীদের নাম ও গুণগান বসিয়ে শিল্পীদের দিয়ে গান রেকর্ড করানো হচ্ছে। সেই রেকর্ড সারাদিন বাজানো হচ্ছে মাইকে।
নতুন এই মাইকিং পদ্ধতি এলাকার ভোটারদের যেমন আকৃষ্ট করছে, তেমনি প্রচারের ক্ষেত্রে প্রার্থীর সমর্থকদের কষ্ট কম হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এরকমই একজন প্রার্থীর সমর্থক আবজাল হোসেন। তিনি মোবাইলে গানের রেকর্ড ছেড়ে বসে আছে রিকশায়। তিনি বলেন, মাইকিংয়ের রেকর্ড থাকায় খুব ভালো হয়েছে। আগে সারাদিন মাইকে প্রার্থীদের প্রচার করতে খুব কষ্ট হতো। এখন শুধু মোবাইল নিয়ে রেকর্ড বাজালেই হয়। গানের সুরে করা এই মাইকিং এলাকার জনগণের বিনোদন দিচ্ছে বলে জানান আবজাল।
মিয়া ফাজিল চিশত এলাকার গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, পুরোনো সব গানের সুরে প্রার্থীদের নির্বাচনী মাইকিং ভালোই লাগে। সারাদিনই বিভিন্ন প্রার্থীদের মাইকিং পাড়ায় আসে। বড়দের পাশাপাশি ছোটরা এই মাইকিং উপভোগ করছে।