তপন কুমার দাস, বড়লেখা | ০৩ জুলাই, ২০১৫
প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে জালনোট চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে বড়লেখায়ও। এই পার্বণগুলোতে নতুন নোটের চাহিদা বিবেচনায় এবং পুরাতন ও ছেঁড়াফাটা নোট বাজার থেকে তুলে নিতেই নতুন নোট ছাড়া হয়। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগায় জাল নোটের ব্যবসায়ীরা।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় প্রতি বছরের মতো ঈদ-উল-ফিতরকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়েছে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা। আর এদের কাছে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
এ নিয়ে আতংকে রয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা থেকে শুরু করে সব শ্রেণী পেশার মানুষ। বড়লেখার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন জাল নোট ব্যবসায়ী ও তাদের এজেন্টরা থাবা বসিয়েছে সিন্ডিকেট তৈরীর মাধ্যমে। সম্প্রতি এ উপজেলার ৪জন ব্যবসায়ী প্রতারিত হয়েছেন জাল নোট পেয়ে। এছাড়াও অনেকে প্রতারণার শিকার হলে বিষয়টি প্রকাশ করেন না।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এক বাজারে ও বড়লেখা পৌর শহরের এ ৪ জন ব্যবসায়ী জাল নোট পেয়ে প্রতারিত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, আমি বুঝতে পারিনি কিভাবে ৪টি ৫’শত টাকার জাল নোট দিয়ে আমাকে প্রতারিত করা হয়েছে। জাল নোট পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ৩টি নোট ছিঁড়ে ফেলেন। প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে মানুষ। কিন্তু হয়রানির ভয়ে অনেকে প্রশাসনকে অবগত করেন না।
প্রতারিত ব্যবসায়ী সুত্রে জানা গেছে, এ ধরণের অনেক ছোট-বড় ঘটনা প্রতিদিন ঘটলেও তা প্রকাশ পাচ্ছে না। প্রতারিতরা বলেন, বড়লেখার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন জাল নোট ব্যবসায়ী ও তাদের এজেন্টরা থাবা বসিয়েছে সিন্ডিকেট তৈরীর মাধ্যমে। যারা বাজার জাল নোট চড়ায় তারা আসলে চুনোপুঁটি। পর্দার আড়ালে আছে প্রভাবশালী রাঘব বোয়ালরা। রাঘব বোয়ালদের দ্রুত গ্রেফতার করা হলে জাল নোটের প্রতারনা থেকে মানুষ রেহাই পাবে।
এ ব্যাপারে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। তবে আমাদের গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যমতে উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজার কেন্দ্রিক একটি জাল নোটের ব্যবসায়ী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তার জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসে। এদের সাথে স্থানীয় কয়েকজনও রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। হাট ও বাজারে সাদা পোষাকে পুলিশ মোতায়েন আছে। এছাড়া জাল নোট সনাক্তকরণে আমাদের রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ও কলম।