নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ জুলাই, ২০১৮
ওয়াজ শুনে জিহাদে প্রভাবিত হয় লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হামলাকারী ফয়জুল হাসান। এছাড়া কিছু উগ্রবাদী বই পড়েও সে জঙিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
বুধবার বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ। তবে ফয়জুলের সাথে আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় কোনো জঙ্গিগোষ্টির সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফয়েজের উগ্রবাদী হয়ে পড়া প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে ফয়েজকে তার বন্ধু সোহাগ একটি ৮জিবি মেমোরি কার্ড দেয়। ওই মেমোরি কার্ড থেকে জসিম উদ্দিন রাহমানী, তামিম উদ্দিন আদনানী এবং ওলিপুরী হুজুরের ওয়াজ শুনে ফয়জুল জিহাদের ব্যাপারে প্রভাবিত হয়। এছাড়া জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা ‘উন্মুক্ত তরবারি’ পড়ে এবং তিতুমির মিডিয়ার ভিডিও দেখে সে ধারণা করে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল নাস্তিক। দ্ওায়াহ-ইলাল্লাহ নামক ওয়েবসাইটে সে জাফর ইকবালের ‘ভুতের বাচ্চা সোলায়মান’ বইয়ের ছবি দেখে এবং সেখানে বিভিন্ন কমেন্ট থেকে ধারণা নবী সোলায়মান (রা.) কে কটাক্ষ করে বইটি লেখা হয়েছে। এসব দেখে এক বছর আগে সে জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে লক্ষ্যে নগরীর আল হামরা মার্কেটের নিচতলার একটি দোকান থেকে ছুরি কিনে সুযোগ খুঁজতে থাকে।’
পরিতোষ ঘোষ জানান, এই হামলার ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশ। আজ (বৃহস্পতিবার) এটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে। অভিযোগপত্রে ফয়জুল হাসান ফয়েজ ছাড়াও ফয়েজের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়া, বাবা হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান, মা মোছাম্মৎ মিনারা বেগম, মামা মো. ফজলুর রহমান এবং ফয়েজের ভাই এনামুল হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ৮, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিতোষ ঘোষ আরো বলেন, মামলার প্রধান আসামী ফয়জুল হাসান নিজেই জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৩/৪ মাস থেকেই সে জাফর ইকবালকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। আদালতে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথাও স্বীকার করে ফয়জুল।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। হামলার পরপরই ফয়জুল হাসানকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় শাবিপ্রবির রেজিস্টার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন জালালাবাদ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।