কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ২৮ জুলাই, ২০১৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জর পৌর এলাকায় এক কিশোরীকে (১৫) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিন বখাটে যুবক কর্তৃক শুক্রবার গভীর রাতে ধর্ষণের অভিযোগে কিশোরীর মা কমলগঞ্জ থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
শনিবার (২৮ জুলাই) ভোর রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভার ভানুগাছ বাজারের মকবুল আলী সড়কে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী কিশোরী (১৫) একটি বাসার কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাসায় যাচ্ছিলো। এ সময় রাস্তায় তিন বখাটে কিশোরীকে মুখ চেপে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর শুক্রবার রাতে কমলগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন ধানি জমিতে ফেলে যায়। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এএসআই মোস্তফা মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাত ৯টায় কিশোরীকে উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
কিশোরীর বক্তব্য অনুযায়ী এ ঘটনায় জড়িত তিন কিশোরকে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় তাদের বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পিতৃহীন ধর্ষিতা ওই কিশোরী তার মা বোনের সাথে পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজারে মকবুল আলী সড়কের (ধানসিঁড়ি আবাসিক এলাকা) একটি ভাড়া বাসায় থাকত বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পশ্চিম বালিগাঁও গ্রামের আজাদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া ওরফে বাবু মিয়া (১৮), বটতল গ্রামের আকরাম উল্যার ছেলে আব্দুল মুমিন (২০), ও সিএনজি চালক ধলাইপার গ্রামের আদিল চৌধুরীর ছেলে জাহিদ হাসান ওরফে সোহাগ মিয়া (১৯)। এ ঘটনায় ধর্ষিতা কিশোরীর মা পারুল বেগম শনিবার সকালে কমলগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
কমলগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মুগ্নী মুহিত জানান, ধর্ষিতা এই কিশোরী তার মায়ের সাথে পৌর এলাকার ভানুগাছ বাজারের মকবুল আলী সড়কের (ধানসিঁড়ি আবাসিক এলাকায়) রফিক মিয়ার কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকে। তারা খুবই দরিদ্র বলে অন্যের ঘরে ঝিয়ের কাজ করত।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোক্তাদির হোসেন পিপিএম তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তিন ধর্ষককে শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।