দেবব্রত চৌধুরী লিটন | ৩০ জুলাই, ২০১৮
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ। চতুর্থবারের মত অনুষ্ঠিতব্য এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সিলেট নগরীর বাসিন্দারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
এবার সিসিক নির্বাচনে ৩ লক্ষ ২১হাজার ৭শত ৩২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪ শত ৪৪ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৫০ হাজার ২ শত ৮৮ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে ৬জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলো মুখরিত হবে ভোটারদের পদচারণায়।
গত ১০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা ২৮ জুলাই মধ্য রাতে শেষ হয়। টানা ১৮ দিনরাত এক করে বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা যে যেভাবে পারেন নাগরিকদের মনোযোগ আকর্ষণের প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। এ কয়েক দিনে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, আচরণবিধি লঙ্ঘন, শব্দ দূষণসহ বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনা সংবাদ শিরোনামও হয়েছেন এ কয়দিনে।
প্রার্থীদের চোখে আগামী ৫ বছরে কেমন হবে সিলেট সিটি সেটাও ইশতেহারের মাধ্যমে নগরবাসীর কাছে তুলে ধরেছেন মেয়র প্রার্থীরা। তবে সিসিকের বিগত দুই মেয়রের ইশতেহারের দিকেই চোখ ছিল নগরবাসীর।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান নগরবাসীর কাছে শেষবারের মত ভোট চেয়ে ইশতেহারে ফ্লাইওভার বানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে নতুন গ্যাস সংযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আইসিটি পার্ক স্থাপন, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ও আধুনিক শিল্পপার্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন।
অপরদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নিজের ইশতেহারে নির্বাচিত হলে নগরীতে মেট্রোরেল কিংবা টিউব (আন্ডারগ্রাউন্ড রেল) চালু করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সাথে গেল মেয়াদের অসমাপ্ত কাজগুলোও শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এদিকে সিসিক নির্বাচনে অঞ্চলভিত্তিক ভোটাররা ফ্যাট হতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এবার অঞ্চলভিত্তিক ভোটগুলো কার বাক্সে পড়বে এ নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলছে নানা হিসেব নিকেশ। অঞ্চলভিত্তিক এসব সমিতির ভোট টানতে মেয়র প্রার্থীরা চালিয়েছেন দৌড়ঝাঁপ।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এর প্রকাশিত একটি জরিপ নতুন সমীকরণে ফেলেছে মেয়র প্রার্থীদের। রোববার জয়ের প্রকাশিত জরিপ অনুসারে ২৩ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কামরানের পক্ষে ৩৩ শতাংশ এবং আরিফের পক্ষে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটাররা আছেন বলে জরিপে উল্লেখ করেন তিনি। জরিপে এই দুই সাবেক মেয়রের মধ্যে ৩ শতাংশ ভোটারের ব্যবধান উঠে এসেছে। তাই সিদ্ধান্তহীন থাকা ২৩ শতাংশ ভোটাররাও ফ্যাক্টর হতে পারেন বলেও মনে করছে নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
সব কিছু ছাপিয়ে প্রার্থী ও নগরবাসী চোখ এখন ব্যালট পেপারের দিকে। প্রস্তুত হয়েছে ভোটের নগরী সিলেট। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ২৭টি ওয়ার্ডের ১৩৪টি ভোটকেন্দ্রের ৯২৬টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার বিকেলের মধ্যে ১৩৪টি কেন্দ্রে নির্বাচনের সরঞ্জামাদি পৌঁছে যায়। নির্বাচনকে ঘিরে নগরীতে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছেন সিসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিসিক নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০ কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাড়ানো হয়েছে এসব ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তাও।
মেয়র পদে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তারা হলেন– আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), সিপিবি-বাসদের মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা), নাগরিক ফোরামের প্রার্থী সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি), সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের (হরিণ)। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বেশকিছুদিন নির্বাচনের মাঠে প্রচারণা চালালেও হঠাৎ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় ব্যালট পেপারে থাকবে সেলিমের বাসগাড়ি প্রতীক।