নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ আগস্ট, ২০১৮
দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। আবেদনের ফরমও নেওয়া হচ্ছে না। দেওয়া হচ্ছে না প্রস্তুতকৃত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ডেলিভারি। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে আগে ছিল দালালদের ভোগান্তি।
তবে সময়ের বিবর্তনে সেটি এখন অনেকটা কমেছে। কিন্তু সেবাগ্রহীতাদের নতুন ভোগান্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাট। প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেবাগ্রহীতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষায় থাকেন পাসপোর্টের জন্য।
মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) একই সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন পাসপোর্ট নিতে ও কাগজপত্র জমা দিতে আসা গ্রাহকরা। প্রখর রোদেও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। এই ভোগান্তি নতুন নয়। প্রায় দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বিড়ম্বনার কারণ বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা অনেকে।
সরেজমিন দেখা যায়, সিলেট পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সেবা গ্রহীতারা। মাথার উপর তপ্ত রোদ। তারপরও দীর্ঘ সারি থেকে সরতে নেই। এর একটাই কারণ লাইনচ্যুত হওয়া। সেবাগ্রহীতাদের কেউ একবার লাইন থেকে বেরিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। এমন অবস্থায় রোদে পুড়েও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে জানালেন কয়েক সেবা গ্রহীতা।
পাসপোর্ট আবেদন জমা দিতে আসা আতিকুর রশিদ, রিমন মিয়া, শিব্বির আহমদ বলেন, সকাল ১০টা থেকে বিদ্যুতহীন। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ এলেও এই সময়ের মধ্যে শত শত লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে যান। একেতো রোদ, তারপর কে কার আগে যাবেন এ নিয়ে চলছে বাগড়া।
পাসপোর্ট নিতে আসা লিমা বেগম, নাজনীন সুলতানা, সহির উদ্দিন, নাবীল আহমদ ও আলিম আল রাফি চৌধুরীসহ অনেকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনিয়ম কমে এলেও পাসপোর্ট অফিসের এখন নতুন ভোগান্তি বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিনে অন্তত কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কর্তৃপক্ষের কোনো কিছু যায় আসে না। এজন্য ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
তাদের মতে, এরকম জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ডাবল লাইন থাকা প্রয়োজন ছিল।
সিলেট পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের একটু ভিড় লেগে যায়। তারপরও শৃঙ্খলার মধ্যে সবার পাসপোর্ট দেওয়া ও আবেদন ফরম নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।