নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ জুলাই, ২০১৫
আইএস-এ যোগ দেওয়া ১২ সদস্যের পরিবারের প্রধান আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই আব্দুল লতিফ
'আমাদের পরিবারের সকলেই ধর্মপরায়ণ। তবে ছেলেমেয়রা একটু বেশীই ধর্মপরায়ণ। এরমধ্যে রাজিয়া তো একেবারে অতিরিক্ত। সে কট্টর, উগ্র; বাংলাদেশে এমন চলে না।' বলছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাও এলাকার বাসিন্দা আবদুল লতিফ।
তার পরিবারের ১২ সদস্য সম্প্রতি সিরিয়ায় গিয়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দিয়েছে। আইএস-এ যোগ দেওয়া পরিবারটির প্রধান আব্দুল মান্নানের ছোট ভাই আব্দুল লতিফ।
গত ১১ এপ্রিল পুরো পরিবারকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মান্নান। এসময় ফেঞ্চুগঞ্জের নিজ বাড়িতে এক মাস অবস্থান করেন তারা। বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময়ে রাজিয় খানেমর (২১) আচরণ অস্বাভাবিক ছিলো বলে দাবি করেছেন তার চাচা আব্দুল লতিফ।
রাজিয়ার প্ররোচনায়ই পুরো পরিবার আইএসে যোগ দিতে পারে বলে ধারণা তার। আব্দুল লতিফ জানান, ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে আসার পর রাজিয়াসহ ভাতিজিরা ঘর থেকে সামান্য বেরুলেও পর্দা দিয়ে বেরুতো। এমনকি হাতে হ্যান্ডগ্লাভসও পরতো তারা।
ভাতিজিদের এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলেছিলো, তাদের এভাবেই ভালো লাগে। দেশে থাকাকালীন সময়ে রাজিয়ার আচরণ বাড়াবাড়ি রকমের কট্টর ছিলো বলে জানান আব্দুল লতিফ।
তিনি বলেন, রাজিয়া গরমের মধ্যেও যেভাবে সর্বাঙ্গ ঢেকে রাখত এবং সবাইকে পুরো পর্দা করতে বলত, তা কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হত। রাজিয়ার প্ররোচণায় তারা আইএসে যোগ দিতে পারেন।
বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ বলেন, একমাস অবস্থানের পর ১২ মে পুরো পরিবার নিয়ে দেশ ছাড়েন আব্দল মান্নান। কথা ছিলো তুরষ্ক হয়ে লন্ডনের লুটনে ফিরে যাবেন তারা। তুরস্ক পৌছার পর আমাদের সাথে কথা বলেন তারা। কিন্তু তার পর থেকেই নিঁখোজ।
অনেকদিন অতিবাহিত হলেও কোন খোজ না পেয়ে লন্ডন পুলিশের কাছে ধর্ণা দেই আমরা। বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় রাজিয়া বিদেশে যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছে তার তথ্য দেওয়া হয়েছে বৃটিশ পুলিশকে। তার পরই বৃটিশ পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয় যে তারা সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে।
এরপর আইএস থেকে বিবৃতি আসার পর পুরো নিশ্চিত হন আব্দুল লতিফ। ‘ইসলামী খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নামা আইএসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য থেকে অন্তত ৪২ জন ইতোপূর্বে সিরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন।
এর মধ্যে লুটনের একজন রয়েছেন। আইএস সংশ্লিষ্টতার জন্য লুটনের আরেক নারীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো পরিবারের আইএসে যোগ দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।
৭৫ বছর বয়সী মান্নানের পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবিল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাঈদা খানম (২৭); মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রশানারা বেগম (২৪) এবং তাদের তিন সন্তান, যাদের বয়স এক থেকে ১১ বছর।