Sylhet Today 24 PRINT

কোম্পানীগঞ্জের ওসির মদদে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন!

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১৮ আগস্ট, ২০১৮

কোম্পানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাইয়ের কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতারা। তারা দাবি করেছেন- ওসির মদদে গেলো এক মাস ধরে কোম্পানীগঞ্জে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে করে পাথরখেকোদের চক্রের কবলে পড়ে শারপিন টিলা, কালাইরাগ, ধলাই সেতু, সাদা পাথর এলাকা এবং লিলাই বাজারের অস্তিত্ব বিলীন হতে যাচ্ছে।

এ কারনে কোম্পানীগঞ্জের বিতর্কিত ওসি আব্দুল হাইকে দ্রুত অপসারন করে কোম্পানীগঞ্জকে লুটপাটের কবল থেকে রক্ষা করার দাবি জানান তারা। বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
 
সিলেটের পুলিশ সুপার ছাড়াও স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, সিলেট-৪ আসনে এমপি, আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, দুদক, ডিজিএফআই, এনএসআই, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সহ সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। আর স্মারকলিপি গ্রহন করে এ ব্যাপারে ওসিকে দ্রুত অন্যত্র বদলি করার অনুরোধ জানিয়েছেন সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা।

স্মারকলিপি দাতারা হচ্ছেন- কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী শামীম আহমদ, ইছাকলস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আশিক মিয়া, উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালা মিয়া, সাধারন সম্পাদক কৃষ্ণধন সিংহ, ইছাকলস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আছাব মিয়া, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কবির আহমদ, নুরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম, ইসলাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- সিলেট সহ কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলোতে পাথর উত্তোলনে হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞায় কোনো কর্নপাত না করে কোম্পানীগঞ্জের বিতর্কিত ওসি আব্দুল হাইয়ের মদদে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে গোটা উপজেলা। গুচ্ছগ্রাম মসজিদ এলাকায় স্থানীয় পাথর সিন্ডিকেটের সঙ্গে আতাঁত করে অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন লাগিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। শারফিন টিলা এখন বোমা মেশিনের তান্ডবে বিপর্যস্ত। কালাইরাগ ও দয়ারবাজার এলাকায় শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল শুরুর আশংকা রয়েছে। ধলাই ব্রিজের নিচে নিষিদ্ধ স্থানে শতাধিক বোমা মেশিন লাগিয়ে প্রতি রাতেই পাথর লুটপাট হচ্ছে। এতে করে ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়েছে। ভোলাগঞ্জের ১০ নম্বর এলাকা সাদা পাথরের জন্য সমৃদ্ধ। রাতের আধাঁরে নৌকা দিয়ে পাথর লুটপাট হচ্ছে। আর এসব কোয়ারিতে পাথর লুটপাটের শেল্টার দেওয়া ওসি আব্দুল হাই প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

তেলিখাল ইউপির ছাতলপারের বালু মহালের নৌকা থেকে ওসি আব্দুল হাইয়ের নির্দেশে চাদাবাজি করা হচ্ছে। ধলাই নদীতে চলাচলকারী লিস্টার, উৎমা ছড়া, মাঝেরগাও কোয়ারি থেকে বড় অংকের চাদা আদায় করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী বড়পুঞ্জির ইন্ডিয়ার ঘাট এলাকা মাদক চোরাকারবারিদের স্বর্গরাজ্য। ওই এলাকায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংখ্যতা গড়ে বড় অংকের টাকা আদায় করছেন তিনি। ডাকাতির জন্য বিখ্যাত হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা। ওসি আব্দুল হাই যোগদানের পর থেকে ডাকাত চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়েছে। ভোলাগঞ্জের সংরক্ষিত রেলওয়ের ভুমিতে অর্ধশতাধিক ও লিলাইবাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক বোমা মেশিন চলে। ওসি ওই এলাকার কমপক্ষে ৫০টি বোমা মেশিন সিন্ডিকেটের কাছ থেকে অগ্রীম হিসেবে ১ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। এর বাইরে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ বোমা মেশিন চলে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। ওসি একেক এলাকার বোমা মেশিন সিন্ডিকেটদের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা হারে আদায় করেন। উৎমা কোয়ারি থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা, শারপিন টিলা থেকে ৩০ হাজার টাকা, আলোচিত কালাইরাগ এলাকা থেকে প্রতিদিন ৫-৬ লাখ টাকা ওসির চাদাবাজ বাহিনী আদায় করছে।

স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন- কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিনভর দুর্গম এলাকাগুলোতে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখেন, আর ওসির নির্দেশে রাত হলেই গোটা উপজেলাজুড়ে শুরু হয় পাথর লুটপাটের মহোৎসব। এই পাথর লুটপাটের লাভের সিংহভাগ টাকাই যায় ওসি আব্দুল হাইয়ের পকেটে। এর বাইরেও ওসির প্রত্যক্ষ মদদে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, ধরপাকড় সহ নানা ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষ। লিলাইর বাজার হুমকির সম্মুখিন হওয়ায় স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন পাথর উত্তোলন জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু ধূর্ত ওসি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দেওয়ার কারনে আলাউদ্দিনকে ষড়যন্ত্রমুলক একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে কারান্তরীণ করেছেন। শুধু তাই নয়, আরেকটি মামলা থেকে রেহাই করতে তিনি আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষও আদায় করেন। ৮ই আগষ্ট কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা এখলাছ এবং স্থানীয় শফিক মেম্বার ও ছাত্রলীগের সভাপতিকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.