সেলিম আহমেদ, কুলাউড়া | ০৬ জুলাই, ২০১৫
কুলাউড়া উপজেলার কালিটি চা বাগান চা চাষের জন্য জমি লিজ নিয়ে তা বিক্রির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্রি চেষ্টা খবরে লিজকৃত জমিতে বসবাসরত সাড়ে ৩শতাধিক পরিবারের মধ্যে উচ্ছেদ আতংক দেখা দিয়ছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকার বাসিন্দারা এই জমি ক্রয় না করার জন্য সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শণে জানা যায়, জোবেদা টি কোম্পানীর মালিকানাধীন কালিটি চা বাগান অবৈধভাবে মনছড়া মৌজার পুরাতন দাগ নং ৫৯, ৭৪, ৬৮, ৭০ ও ৭৫ এই পাঁচটি দাগের মোট ২৮৬ একর জমি চা চাষের জন্য বন্দোবস্ত নেয়। বন্দোবস্ত নেয়ার সময় বাগান কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে কোনো বসতি নেই বলে উল্লেখ করে। ন্যাড়া পাহাড় দেখিয়ে প্রশাসনের যোগসাজশে অবৈধভাবে ভুমিটি বন্দোবস্ত নেয়। মুলত এই ভুমিতে মনছড়া ও প্রতাবী এলাকা অবস্থিত। যেখানে সাড়ে ৩শত পরিবারের বসবাস।
বসবাসরত লোকজনরা জানান, এই ভুমিতে তারা ৭০-৮০বছর থেকে বংশ পরস্পরায় বসবাস করছেন। তারা ওই এলাকার ভোটার এবং তাদের রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। এখানে তাদের আম, কাঁঠাল, সেগুন, সামাজিক বনায়ন ও ধান চাষাবাদ রয়েছে।
বর্তমানে অতিগোপনে কালিটি চা বাগান অবৈধভাবে লিজ নেয়া ওই ভুমি বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এই ভুমি নিয়ে তাদের প্রায় ২৪ টি স্বত্ত্ব মামলাও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা উক্ত ভুমি ক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য গণমাধ্যমে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে বাগানে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা জানান, মালিকপক্ষ বাগানটি বিক্রির চেষ্টা করছে। ফলে বাগানে কর্মকর্তারা বিকল্প কমসংস্থানের খোঁজ করছেন। ইতোমধ্যে দেশের খ্যাতনামা কয়েকটি কোম্পানী ক্রয়ের করার উদ্দেশ্যে সরেজমিন বাগান দেখতে আসে। কিন্তু ভুমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি জানতে পেরে তারা ফিরে গেছেন। তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে জোবেদা টি কোম্পানীর মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগের জন্য তাদের মোবাইল নাম্বারটিও স্থানীয় দায়িত্বশীলরা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বাগান ব্যবস্থাপক রবিউল হাসান জানান, এ বিষয়টি তার জানা নেই। মালিকপক্ষ এব্যাপারে তাকে কিছু জানায়নি।