প্রদীপ দাশ সাগর | ০৭ জুলাই, ২০১৫
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারের কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে জবর দখল করেছে কতিপয় প্রভাবশালী ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর মৌজার জেএল নং ১৮, খাস খতিয়ান ১ ও দাগ নং-১২৮ এর গোপাট রকম ২২ শতক ভূমির মধ্যে প্রায় কোটি টাকা মুল্যের অন্তত ৭/৮ শতক ভূমি গত ২৭ জুন গভীর রাতে একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে জবর দখল করে একটি টিন শেড ঘর নির্মাণ করে।
এর আগে ২৭ জুন দিনের বেলায় ওই জায়গা জবর দখলের খবর পেয়ে ইনাতগঞ্জ তহশীল অফিস অবৈধ দখলদারদের মৌখিত ভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছিল। তা না মানায় ২৮ জুন স্থানীয় তহশীলদার মহসিন ভুইঁয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি বরাবরে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একটি পত্র প্রেরণ করেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আনোয়ার হোসেন সরজমিনে গিয়ে অবৈধ দখলদারদের ৩ দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু ১ সপ্তাহ পার হলেও স্থাপনা সরানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে উচ্ছেদ মামলা রুজুর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
এলাকাবাসী জানান, এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে স্কুলের পরিবেশ বিপন্ন হবে। বখাটে ছেলেদের আড্ডার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে স্কুলের ছাত্রীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে ওই জায়গার উপর দিয়ে ইনাতগঞ্জ বাজারসহ আশপাশ এলাকার মানুষের জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনাও ভেস্তে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ জানান, স্কুলের আয় বর্ধনের কথা বলে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা বে-আইনী। আমরা দখলের খবর পেয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করি। কিন্তু দখলকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় আমরা আইনগত ভাবে বিষয়টির নিস্পত্তি করব।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধ দখলদাররা নিজ দায়িত্বে স্থাপনা অপসারণ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার আগে ভূমি সার্ভে করার জন্য সার্ভেয়ার পাঠানো হয়েছে।
ইনাতগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, সরকারের কোটি টাকার ওই সম্পত্তি স্কুলের নাম ব্যবহার করে একদল ভুমিখেকো রাতের আধারে দখল করে নিয়েছে। এতে পানি চলাচলের রাস্তা বন্ধসহ এখানকার পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। ইতিমধ্যে ওই প্রভাবশালী মহল মার্কেট নির্মাণের পর কে কোন কক্ষ নিবেন, স্কুলে কত টাকা দেয়া হবে তা নির্ধারণ করতে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরে ওই জায়গায় প্রয়োজনে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও জনসাধারণের সুবিধার্থে একটি মিনি পার্ক তৈরী করে দেয়া হতে পারে।
স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শকদিল হোসেন বলেন, স্কুলের স্বার্থে যে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে তা ১২৮ দাগ নয়, ১২৭ দাগের ভুমি। যা ১৯৮০ সালে স্কুল বন্দোবস্ত এনেছে। তবে তার এই বক্তব্যের সাথে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।
ইনাতগঞ্জ তহশীল অফিসের তহশীলদার মহসিন ভুইঁয়া বলেন, ১২৭ দাগের ভুমি স্কুল থেকে অনেক দূরে। দখলীয় ভুমির দাগ সরকারের খাস খতিয়ানের ১২৮। এছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষ গত ৭ জুন বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের অন্তভুক্ত দাগগুলো হলো ৩৭, ৩৮, ১৬৫ ও ১৬৬, মোট মোয়াজি ১ একর ৮৮ শতক। যা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই দাগগুলো ব্যতিত স্কুলের নামে কোন ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি।