Sylhet Today 24 PRINT

সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ের মৃত্যু: এখনো শোকে স্তব্দ পুরো পরিবার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

শোক কিছুতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না আলফু মিয়া। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কেড়ে নিয়েছে তাঁর জীবনের সব আনন্দ। দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন স্ত্রী আর নিজের আদরের মেয়েকে। তিনিও গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা সামিনা নুর নীলা (২৫) ও তার মা রুবিনা বেগম (৪৫)। এতে আহত হন নীলার বাবা আলফু মিয়া (৬৫) ও ছোট ভাই আসিফ (২০)।

চিকিৎসা শেষে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুরো পরিবার নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন আলফু মিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রামপুরা এলাকায় এনা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নীলার মৃত্যুতে ভেঙে গেছে দুটি পরিবারের স্বপ্ন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে নীলার বিয়ে ঠিক করা ছিল। দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক অনেক দিনের। কেউ অপেক্ষা করছিলেন নববধূকে বরণ করার। আর নীলার মা অপেক্ষা করছিলেন মেয়েকে নতুন পরিবারে তুলে দেওয়ার।  সময় এসেছিল স্বপ্ন সত্য করার। আর মাত্র কয়টা দিন ছিল তাদের হাতে। এরই মধ্যে একটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাদের স্বপ্ন।

একসঙ্গে পরিবারের দুইজনকে হারিয়ে নির্বাক বাবা-ছেলে। মুখে পানিও নিতে চাচ্ছেন না তারা। বড় বোন ছিল আসিফের বন্ধু। আর মা তো ছিল তার পৃথিবী। এক সঙ্গে তাদের হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আসিফ।

কান্না করতে করতে আসিফ বলেন, এমন ঘটনা একটি পরিবারকে কি করে মুহূর্তেই তছনছ করে দিতে পারে, তা শুধু সেই বুঝবে যার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর যেন এমন ঘটনা কারও জীবনে না ঘটে সেই ব্যবস্থা করুক সরকার।

স্ত্রী আর মেয়ের শোকে নির্বাক আলফু মিয়া। নিজেও ছিলেন সেই গাড়িতে। দুর্ঘটনায় তিনিও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়াতো দূরের কথা সামান্য পানিও মুখে নিচ্ছেন না তিনি। কারও সঙ্গে কথাও বলছেন না। শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছেন।

প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা আসছেন একটু পর পর। তবে কেউ কোনো কথা বলছেন না। শুধু একটু দাঁড়িয়ে থেকে চোখের পানি ফেলে চলে যাচ্ছেন তারা।

তাদেরই একজন মোনায়েম। তিনি জানান, আর মাত্র কয়টা দিন পরেই বিয়ে ছিল নীলার। পরিবারের সবাই মিলে শেষ করেছেন বিয়ের কেনাকাটাও। কিন্তু কে জানতো একটা পরিবার যে এভাবে শেষ হয়ে যাবে?

শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, যে থানায় দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সেখানে মামলা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.