শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
মজুরি কম দেওয়ার অভিযোগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগানে ৫ দিন ধরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছে অস্থায়ী চা শ্রমিকরা।
সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে এরই অংশ হিসেবে ভাড়াউড়া চা বাগান ও টিপরা ছড়া চা বাগানে কর্মবিরতি পালন করছেন চা বাগানের অস্থায়ী চা শ্রমিকরা।
ভাড়াউড়া চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিকরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী চা বাগানের সকল শ্রমিক দৈনিক ১০২ টাকা মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও অস্থায়ী শ্রমিকদের কোন বাগানে ৭০ টাকা, কোন বাগানে ৮৫ টাকা এ রকম করে দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে শ্রমিকরা কাজে যেতে চাচ্ছেন না। বাগান মালিকদের উচিৎ শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করা।
রুপলাল হাজরা নামের এক অস্থায়ী চা শ্রমিক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চা বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা অস্থায়ী শ্রমিকরা রেশন, পেনশনসহ চা বাগানের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখন যদি আমাদের মজুরি নিয়েও টালবাহানা করা হয় তাহলে আমরা কোথায় যাব।
ভাড়াউড়া বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নুর মিয়া বলেন, মালিক ও শ্রমিকদের চুক্তি অনুযায়ী সব শ্রমিক সমান টাকা পাবে। এখন মালিক পক্ষ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শ্রমিকদের প্রাপ্ত মজুরি দিচ্ছে না। স্থায়ী চা শ্রমিকরা মজুরি চুক্তি অনুযায়ী মজুরি পেলেও অস্থায়ী শ্রমিকরা পাচ্ছে না। এ কারণে চা বাগানে অস্থায়ী শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে। চা বাগানে এরকমভাবে মজুরি বৈষম্যের কারণে বাগানের স্থায়ী শ্রমিক ও অস্থায়ী শ্রমিকদের মাঝে ঝামেলা হচ্ছে।
বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা চা শ্রমিক নেতারা প্রায় বিশ মাস মালিকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে মজুরি বৃদ্ধি করছি। তারা আমাদের অনেক ঘুরিয়ে মজুরি বৃদ্ধি করেছে। এখন চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরী সঠিকভাবে দিচ্ছে না। আর এই কারণে বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে শ্রমিকরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিকদের মজুরি সঠিকভাবে না দিয়ে বাগান মালিকরা চা বাগানে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকরা যখন কর্মবিরতিতে যান তখন শ্রমিকরা দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে তাদের কাজে পাঠায়। কিন্তু মালিকরা তাদের কথা রাখেন না।