হবিগঞ্জে প্রতিনিধি | ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
হবিগঞ্জে সুস্থ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচীন্ত চৌধুরী নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদকে সভাপতি করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করেন।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, ডা. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ও ডা. জান্নাত আরা চৌধুরী। আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন।
তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন সুচীন্ত চৌধুরী জানান, নবীগঞ্জের অরবিট হাসপাতালে আসা সুস্থ শিশুকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে মৌলভীবাজারে প্রেরণ- এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী এলাকার রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা। গত ৩১ আগস্ট ঘন ঘন হেচকির কারণে জিবাকে নিয়ে স্থানীয় নবীগঞ্জের আউশকান্দি বাজারের অরবিট হাসপাতালে ডা. খায়রুল বাশারের শরণাপন্ন হন তার মা। এ সময় ডা. খায়রুল বাশার শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক উল্লেখ করে তাকে দ্রুত মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল থাকা সত্ত্বেও নবজাতকের সুস্থতার জন্যমৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ছুটে যান মা। সেখানে কর্তব্যরত ডা. বিশ্বজিতের সাথে মোবাইলে কথা বলেন ডা. খায়রুল। তাদের কথোপকথন হয় শিশুটির মায়ের মোবাইল ফোন দিয়েই।
পরবর্তীতে শিরিনা আক্তার তাদের কল রেকর্ড শুনে বুঝতে পারেন তার শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ। শুধুমাত্র টাকার জন্য তাদেরকে মৌলভীবাজারে পাঠানো হয়েছে।
কথোপকথনের শুরুতেই ডা. বাশারকে উদ্দেশ্য করে ডা. বিশ্বজিৎ বলেন, “তোমার রোগীর তো কোন সমস্যাই নাই। সে সম্পূর্ণ সুস্থ।” উত্তরে ডা. খায়রুল বাশার বলেন, “ভালো বলার দরকার নেই, আমি তো জানি রোগী ভালো। মা হাইপার সেনসেটিভ, রোগীকে ভর্তি করে ইঞ্জেকশন দিয়ে দে।”
পরে চিকিৎসকদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।