সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর একটি হোটেলে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক ফেলোদেরকে নিয়ে মতবিনিময় ও পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক হাজী এম আহমদ আলী।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনৈতিক ফেলো মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুকুল ও সিলেট মহানগর যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদ সারোয়ারের পরিচালনায় সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ।
বিশেষ আলোচক ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান মতি।
প্রধান আলোচক সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি জাতীয় সমস্যা। সরকার ও সিলেট সিটি করপোরেশন বিভিন্ন আঙ্গিকে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছে। এ জন্যে সিলেট সিটি করপোরেশন ৫২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সিলেট আধ্মাতিক নগরী। সিলেট পিছিয়ে থাকার কোন কারণ নেই। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও জনসচেনতার মাধ্যমেই আবর্জনাকে সম্পদে রুপান্তর করা সম্ভব। এজন্যে আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করতে হবে। ঘরের ময়লা ড্রেনে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। টয়লেটের লাইন সরাসরি স্যুয়ারেজে বা ড্রেনের সাথে যুক্ত করা যাবে না। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতন নাগরিক হিসাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিবেশ প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ দূষণ হলে প্রকৃতির বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে, নেমে আসবে বিপর্যয়। নির্মল পরিবেশ, মানসম্মত, স্বাস্থ্যসম্মত সিলেট নগরী গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিলেট রিজিওনালের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর রাহিমা বেগম, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্ভাবক ও পরিবেশ গবেষক আব্দুল হাই আজাদ বাবলা, সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, সিলেট জেলা যুবলীগ নেতা মনোয়ার হোসেন মনু, সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক কয়েস আহমদ সাগর, সহযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, সিলেট পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মহানগর বিএনপি নেতা আফজল উদ্দিন, দিলোয়ার হোসেন রানা প্রমুখ।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ড্রেনে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা, ড্রেনের সাথে সরাসরি বাসার টয়লেটের লাইন স্থাপন না করা, নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিকাল বর্জ্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের যত্রতত্র ফেলা বর্জ্যসহ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দিকগুলোর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। লালমাটিয়ায় নির্মিত সিলেট সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং এলাকাটি বর্তমানে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবেশ ছাড়পত্রবিহীন এই ডাম্পিং এলাকার চতুর্দিকে পাকা দেয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো হয়নি।
তারা আরও বলেন, হাওরে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে হাওর, নদ-নদী খাল বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। মৎস্য, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মানুষ। সেই সাথে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ময়লা পুড়ানো হচ্ছে না। এতে এই এলাকার জনজীবনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এবং সড়ক দিয়ে চলাচলকারী জনসাধারণ ও ট্রেনযাত্রীরা এ কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ক্যান্সারসহ জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
সভায় এই ডাম্পিং স্টেশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি এটি স্থানান্তরের জন্য সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনমত গঠনের জন্য সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।