ডেস্ক রিপোর্ট | ১১ জুলাই, ২০১৫
সিলেট নজরুল একাডেমির ভূমি ও ভবন ভূমি খেঁকো জামায়াত শিবির দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন তিনি।
আজ শনিবার নজরুল একাডেমি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমদ অর্থমন্ত্রীকে একাডেমির ভূমির রক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করলে তিনি এ আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিষ্টার আরশ আলী, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান আহমদ, সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য্য, জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ইইউ শহিদুল ইসলাম শাহিন ও আওয়ামী লীগ নেতা বিজিত চৌধুরী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটের জেলা প্রশাসক নজরুল একাডেমির ভূমি ও ভবনের দখল বুঝিয়ে দিতে গত ২৫ মার্চ নোটিশ প্রদান করে। জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত এ নোটিশে নজরুল একাডেমিকে ১০ দিনের মধ্যে আইনগত মালিক/উত্তরাধিকারীর কাছে ভূমির দখল বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।
পরবর্তীতে ২ জুন জেলা প্রশাসন দ্বিতীয় নোটিশ জারি করে ৭ দিনের মধ্যে এলএ শাখার কানুনগো মলয় করের কাছে দখল সমঝে দেয়ার দির্দেশ দেন। এই নোটিশের প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপিত মোস্তফা জামাল ইসলাম সমন্বয় গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
এতে নজরুল একাডেমির স্থিতাবস্থা বহালসহ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া কেন বেআইনি হবে না এ মর্মে কারণ দর্শাতে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়। নজরুল একাডেমির পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট এএসএম আব্দুল মুবিন। শুনানীকালে উত্তরাধীকারী দাবিদার কপিল দাশের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও এটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ।
২০০৩ সালে ভূমিখেকো জামায়াত-শিবির চক্রের যোগসাজশে জনৈক কপিল দাস দেবোত্তর সম্পত্তিটির সেবাইত কিরণ বিহারী দাস ও সেবাইত কমলা কান্ত দাসের উত্তরাধিকারী দাবী করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে বাড়িটি অবমুক্তির জন্য আবেদন করেন। আর এই আবেদনের পূর্বেই কপিল দাস জামায়াতি একটি চক্রটির সাথে সেরে নেন গোপন আতাঁত।
জানা যায়, জামায়াতের এ চক্রই নজরুল একাডেমিকে দখলের জন্য দাঁড় করায় এক উত্তরাধিকারী। গত বিএনপি জোট সরকারের সময় মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়িয়ে আনা আর দখল বুঝে পাওয়ার জন্য উত্তরাধীকারী দাবিদার কপিল দাস বাহ্যত আবেদন করলেও মূলতঃ আড়ালে থেকে জামায়াতি চক্রটি এর ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে। এর প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় সিলেট জেলা প্রশাসকের নিকট ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল প্রতিবেদন চেয়ে পাঠায়। সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন রহস্যজনক কারণে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবমুক্তির পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ফলে ভূমি মন্ত্রণালয় অস্থায়ীভাবে হুকুম দখলকৃত ২১বি/৪৮-৪৯নং বাড়িটি মূল মালিক যাচাই বাছাই পূর্বক অবমুক্ত করে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করে।
পরবর্তী জেলা প্রশাসকরা অবমুক্তির বিষয়টি আইনি দৃষ্টিতে বিবেচনা করে সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে যথারীতি সিলেট জেলা প্রশাসকের নিকট জানতে চাওয়া হয় কেন প্রকৃত মালিককে দখল বুঝিয়ে দেয়া হলো না? ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই কারণ দর্শনো পত্রের প্রতিউত্তরে সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হারুণ চৌধুরী আত্মপক্ষ সমর্থকমূলক আবেদন প্রেরণ করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে। এতে হারুণ চৌধুরী তার পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসকের প্রেরিত প্রতিবেদন সম্পর্কে উল্লেখ করেন-‘এ কার্যালয় হতে পূর্বে প্রেরিত প্রতিবেদনে অসাবধানতাবশতঃ নিম্ন বর্ণিত বিষয় সমূহ অর্ন্তভূক্ত করা হয়নি।’ অগ্রজ ডিসির ‘অসাবধানতায় অর্ন্তভূক্ত না হওয়া’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কথিত উত্তরাধিকারীর অবমুক্তির আবেদন বাতিল হওয়ার জন্য তিনটি সুষ্পষ্ট কারণ তুলে ধরেন প্রতিবেদনে। এর মধ্যে প্রথমতঃ এস.এ. রেকর্ড মতে উক্ত বাড়িটি শ্রী শ্রী গিরীধারী জিউ দেবতার পক্ষে সেবাইত কিরণ বিহারী দাস ও কমলা কান্ত দাস এর নামে রেকর্ডভূক্ত আছে। যা দেবত্তোর সম্পত্তির তালিকার ১৫নং ক্রমিকে অর্ন্তভূক্ত আছে। আবেদনকারীগণ সেবাইতের উত্তরাধিকারী মাত্র। সেবাইতের উত্তরাধিকারীগণের নামে দেবত্তোর সম্পত্তি অবমুক্ত করার কোন আইনগত সুযোগ নাই।
তারপরও কতিপয় লোককে উত্তরাধিকারী সাজিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী একটি অপশক্তি জাতীয় কবির নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানটির নাম নিশানা মুছে দিতে তৎপর হয়ে উঠে। বাড়িটি রিকুইজিশন করার সুদীর্ঘ ৫৩ বৎসর পর আবেদনকারীগণ স্থানীয় পৌরসভা চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকারী সনদপত্রের ভিত্তিতে অবমুক্ত করার আবেদন করেন। ২০০৩ সালে কপিল দাস যে উত্তরাধিকারী সনদের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে বাড়িটি অবমুক্তির জন্য আবেদন করেন সেই সনদটিও জাল। ২০১০ সালে উচ্চ আদালতের নির্দেশ মতে ভূমি সমঝিয়ে দেয়ার পুর্বে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইকালে বিষয়টি ধরা পড়ে।
কাগজপত্র যাচাইকালে দেখা যায়, উত্তরাধিকার সনদে মেয়রের কোন স্বাক্ষর নেই। তার পক্ষে সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে। তা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।