কমলগঞ্জ প্রতিনিধি | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী ইরানী তাঁতির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন বাবলু দাস (২৫)।
গত শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাবলু দাস মৌলভীবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে বাবলু জানায়, ইরানী তাঁতির সাথে তার দৈহিক সম্পর্ক ছিল। এতে ইরানী তাঁতি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এই গর্ভ নষ্ট করার জন্য ইরানী প্রথমে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে আরও ১০ হাজার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে দুই জনের মাঝে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হলে সে (বাবলু) ইরানী তাঁতির গলা চেপে ধরলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে ইরানী তাঁতি মারা যায়। পরে সে নিজ ঘর থেকে একটি ধারালো দা এনে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে দূরের ধানি জমির কাদার নিচে তা পুতে রাখে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক দাম বাবলু দাসের আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় আটক ধলই চা বাগানের বাবলু দাস ও দেওছড়া চা বাগানের বাবুল দাসকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ইউপি সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৪টায় ধলই চা বাগানের ১নং প্লান্টেশন এলাকা থেকে মস্তকবিহীন অবস্থায় তরুণী ইরানী তাঁতির (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ইরানী তাঁতি শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের দেব তাঁতি ও সেতু তাঁতির মেয়ে।