Sylhet Today 24 PRINT

মোগলাবাজারে আছিয়া হত্যা: আদালতে তিন জনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

সুদের বিশ হাজার টাকা ফেরত না দিতে খুন করা হয় আছিয়াকে। এমনইসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজারের আমেরিকা প্রবাসীর বাড়ির কেয়ারটেকার (তত্বাবধায়ক) আছিয়া বেগম হত্যা ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক তিনজন।

রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম তিনজনের স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। স্বীকারোক্তি শেষে সন্ধ্যায় তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আজবাহার শেখ।

তিনি জানান, তার নেতৃত্বে ও মোগলাবাজার থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সহ থানার পুলিশদের নিয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রোববার ভোরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়, মোগলাবাজার থানার রাঘবপুর গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল বাছিত (২০), একই থানার তুরখকলা গ্রামের মাওলানা আকবর আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহাদি (১৮), বিন্নাকান্দি গ্রামের মৃত ইনসান আলীর ছেলে কামিল আহমদ তাজমুলকে। আটকের পরই তিনজনই ডাকাতি করে মালামাল লুট করে আছিয়া বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাছাড়া আটকের সময় আব্দুল বাছিতের কাছ থেকে প্রবাসীর বাড়ির লুণ্ঠিত ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আজবাহার শেখ আরো জানান, মোগলাবাজার থানার হরগৌরী গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী আবু বক্করের বাড়ির তত্বাবধায়ক ছিলেন জৈন্তাপুর থানার চিকনাগুল পানিছড়া গ্রামের মাখন মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৪০)। তার পূর্ব পরিচিত ছিল হরগৌরী গ্রামের সুমন। সেই সুমন পেশায় একজন লেগুনা চালক ছিলো। তার নেতৃত্বেই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে খুন করা হয় আছিয়া বেগমকে।

তিনি আরো জানান আদালতে তিন আসামী তাদের স্বীকারোক্তিতে বলেছে, তারা তিনজনই ছিলেন লেগুনা চালক সুমনের বন্ধু। আছিয়া বেগম সুদের ব্যবসা করতেন। সুমন মাঝে মধ্যে তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিত। কিন্তু সুমন যে লেগুনা গাড়ি চালায় তার সেই গাড়ির সকল কাগজ আছিয়া বেগমের কাছে জমা রেখে সুমন বিশ হাজার টাকা সুদ নেয়। সুদ নেয়ার পর থেকে সুমন আর সুদের লাভের টাকা বা মূল টাকা ফেরত দেয়নি আছিয়া বেগমকে। এ নিয়ে আছিয়া বেগম সুমনকে বার বার টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু সুমন টাকা দেয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর সুমনের সাথে আছিয়ার দেখাও হয় এবং গাড়ির কাগজ ফেরত দিতে বলে। সে দিন তার সাথে আরো দুই বন্ধু ছিলো। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর সুমন ও আটককৃত তিনজন সহ মোট পাঁচজনকে নিয়ে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে যায় সুমন। সেখানে গিয়ে তার চার বন্ধুকে ঘরে ঢুকে আটককৃত তিনজনসহ মোট ৪ জন আছিয়াকে হাত-পা ও মুখ বেধে ফেলে। পরবর্তীতে সুমন ঘর থেকে তার গাড়ির কাজ নিয়ে নেয় ও আছিয়া বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর সবাই মিলে আমেরিকা প্রবাসীর ঘর থেকে প্রায় বিশ হাজার দুইশত টাকার মালামাল লুট করে আছিয়া বেগমের মৃতদেহ ঘরে রেখে পালিয়ে যায়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যার দিকে মোগলাবাজার ইউনিয়নের হরগৌরী গ্রামে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে মহিলা খুন হন আছিয়া বেগম (৩৭)। তিনি দুই সন্তান নিয়ে গত তিনবছর থেকে কেয়ারটেকার হিসেবে এ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন।

সে সময় পুলিশ ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের আবু বকর ও হেলাল আহমদ দুই ভাই পরিবার নিয়ে আমেরিকা থাকেন। বাড়িটি গ্রামের একপাশে হওয়ায় অন্যান্য বাড়ি থেকে এ বাড়ির দূরত্ব রয়েছে। নির্জন এ বাড়িতে আছিয়া বেগম তার দুই সন্তান সুমন আহমদ (১২) ও ইমন আহমদ (১৫) নিয়ে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে ইমন আহমদ (১৫) সিলেট নগরীতে একটি দোকানে কাজ করে।

নিহতের ছেলে সুমন আহমদ (১২) জানায়- তার ভাই নগরীতে থাকায় সে (সুমন) এবং তার মা বাড়িতে ছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর ৪/৫ জন লোক তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রবেশ করেই ঘরের এক কক্ষে নিয়ে সুমনের হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং অপর কক্ষে তার মাকে বেঁধে ফেলে। তারা তার মাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে। এসময় তার মার শব্দও শুনেছে। অনেকক্ষণ পর কোনো সাড়া শব্দ না পেলে সুমন হাত ও পায়ের বাঁধ ছুটিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কোনো ভাবে বের হতে সক্ষম হয়। এরপর আশপাশের মানুষদের কাছে গিয়ে কান্না করে ঘটনা বলতে থাকে। পরে প্রতিবেশীরা এসে দেখেন ঘরের একটি কক্ষে খাটের উপরে আছিয়া বেগমের নিথর দেহ। পরে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করে হয় । যার নাম্বার ০৮(০৯)১৮ ইং। ধারা ৩৯৪ ও ৩০২ দণ্ডবিধি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.