নিজস্ব প্রতিবেদক | ১২ জুলাই, ২০১৫
১২/১৩ বছরেরর একটা শিশু। শিশুটিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেদম প্রহার করছে ৪ যুবক। যন্ত্রণায় চিৎকার করে কাঁদছে শিশুটি। অথচ নির্যাতনকারীরা তখন বন্য উল্লাসে হাসছিলো।
পেটাতে পেটাতে একপর্যায়ে মেরেই ফেলে শিশুটিকে। হত্যার সেই বিভৎস দৃশ্য ভিডিও করে খুনিরা। এরপর পাশবিক সেই ভিডিও ছেড়ে দেয় ইন্টারনেটে।
হাসতে হাসতে খুন বলে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়। সাধারণত পেশাদার খুনিদের ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য হয়। কিন্তু কুমারগাও এলাকার চার যুবক যেনো পেশাদার খুনিদেরও ছাড়িয়ে দিলো। হাসতে হাসতেই খুন করে ফেললো তারা একটি শিশুকে। তারপর ঠান্ডা মাথায় সেই হত্যা দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়। লাশের গুমেরও চেষ্টা চালায় খুনিরা। এদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শিশুটির নাম শেখ সামিউল আলম রাজন। সে কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে।
রাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে নাকি চুরি করতে গিয়েছিলো। এই তুচ্ছ অভিযোগে বিভৎস নির্যাতন চালিয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়।
গত বুধবার গুম করার চেষ্টাকালে উদ্ধার করা হয় শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের লাশ। এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় রাজনের লাশ ফেলার সময় হাতেনাতে আটক মুহিত (২৫) ও তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার (৩৪) ও নৈশপ্রহরী ময়না মিয়া (৪৫) আসামি করা হয়েছে।
রাজনকে নির্যাতনের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে- চোর সন্দেহে রাজনকে কুমারগাঁও বাসস্টেশনের একটি দোকানঘরের বারান্দার খুঁটিতে বেঁধে রাখে মারধর করা হচ্ছে।
একনাগাড়ে প্রায় ১৬ মিনিট রাজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রোল দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে মাটিতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে পানি খাওয়ার আকুতি জানায় রাজন। কিন্তু পানির বদলে ‘ঘাম খা’ বলে মাটিতে ফেলে রাখা হয় তাকে।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশু যখন চিৎকার করে কাঁদছিলো, খুনিরা তখন ফেটে পড়ে অট্টহাসিতে। হাসতে হাসতে শিশুটিকে নিয়ে তাদের নানা কটূক্তি করতেও শোনা গেছে। রাজনের নখে, মাথা ও পেটে রোল দিয়ে আঘাত করে এক সময় বাঁ হাত ও ডান পা ধরে মুচড়াতেও দেখা যায়।
কয়েক মিনিটের জন্য রাজনকে হাতের বাঁধন খুলে রশি লাগিয়ে হাঁটতে দেওয়া হয়। ‘হাড়গোড় তো দেখি সব ঠিক আছে, আরও মারো...’ বলে রাজনের বাঁ হাত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে আরেকদফা পেটানো হয়। এসময় রাজনের শরীর ও চোখ-মুখ বেশ ফোলা দেখা গেছে।
যে ভিডিও ধারণ করার কাজটি করছিল, তাকে নির্দেশ করে নির্যাতনকারীরা জানতে চায় - ঠিকমতো ভিডিও ধারণ হচ্ছে কি-না। ওপাশ থেকে ‘ফেসবুকে ছাড়ি দিছি, অখন সারা দুনিয়ার মানুষ দেখব...’ বলতে শোনা গেছে।
শেষ দিকে নির্যাতনকারী একজন সঙ্গীদের কাছে জানতে চায়-‘কিতা করতাম?’ বলে। অপর একজনকে তখন ‘মামায় যে কইছন, ওই কাম করি ছাড়ি দে!’ বলতে শোনা যায়।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, এ হত্যার সঙ্গে মামলার আসামি চারজনই সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিডিওচিত্র ধারণসহ পুরো ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহিতকে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রোববার আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে।