Sylhet Today 24 PRINT

‘অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে মিডিয়া এখন কর্মচঞ্চল’

সুনামগঞ্জে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ০৬ অক্টোবর, ২০১৮

প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে এগিয়ে চলছে দেশ। আমরা অনুন্নত থেকে উন্নয়নশীলে অবস্থানে পৌঁছেছি। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের মিডিয়া এখন কর্মচঞ্চল। তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার করা হয়েছে। দেশের তিন কোটি মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তারা সামিল হয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি আমাদের চালিকা শক্তি। হাওর-বাওর কৃষির প্রাণশক্তি। কৃষি জাতীয় জীবনে অবদান রাখছে। কারণ আমরা কৃষকের সন্তান। কেউ আগে, বা কেউ পরে কৃষি থেকে সরে এসেছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, সবাই সাহেব। কৃষকের টাকায় সাহেব। তাই কৃষিকে ও কৃষককে সম্মান দিতে হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করলে সুনামগঞ্জের কৃষিতে অনেক কর্মসংস্থান হবে। ভাসমান সবজি চাষে আমরা পৃথিবীর সবার চেয়ে ভাল করতে পারি।’

জেলা প্রশাসন আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে শনিবার সন্ধ্যায় ‘কৃষি ও কৃষক-উন্নয়ন হাতিয়ার’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


এসময় প্রধান তথ্য কমিশনার আরও বলেন, ‘কৃষিতে আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কৃষিতে এখন খাদ্যশস্য উদ্ধৃত থাকছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণ দেশ। সরকার কৃষিখাতে অনেক ভর্তুকি দিচ্ছে। দারিদ্র বিমোচনে কৃষি আমাদের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। মানব উন্নয়নে হাতিয়ার হল কৃষি। জনগণের কাছে কৃষি সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতকাল থেকেই কৃষি নিয়ে, ধান-মাছ নিয়ে কবিরা কবিতা লিখেছেন। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বলতে আমি মনে করি সুনামগঞ্জকে সামনে রেখেই কবিতা লিখা হয়েছিল। শিক্ষায় সম্পূরক কৃষি শিক্ষা রাখা প্রয়োজন। তাহলে সুনামগঞ্জের শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হতে পারবে ও কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে পারবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম, (প্রাক্তন) অধিনায়ক লে. কর্নেল এস.এম. আবুল এহসান পিবিজিএস. পিএসসি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া, জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল মোমেন, সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

সভায় মুখ্য আলোচনা করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বশির আহমদ সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আল আমিন সরকার।

আলোচনা সভা শেষে স্টলের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। এর আগে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ উন্নয়ন মেলার স্টল পরিদর্শন করেন।
          
সুনামগঞ্জে উন্নয়ন মেলায় পুরস্কার পেলেন যারা
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার সমাপনী দিনে মেলায় অংশ নেয়া স্টলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণিতে একাধিক স্টলকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী দিনের আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী স্টল কর্তৃপক্ষের হাতে পুরস্কার বিতরণ করেছেন প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদসহ অতিথিগন।

মেলার স্টলে সাজসজ্জায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে জেলা গণপূর্ত বিভাগ, প্রধান অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবিল আয়াম।

দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, পুরস্কার গ্রহণ করেছেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাসেম।

তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন। পুরস্কার গ্রহণ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া ও ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাকসুদুল আলম।

নাগরিক সেবায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, পুরস্কার গ্রহণ করেছেন সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার অখিল কুমার সাহা।

দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, পুরস্কার গ্রহণ করেছেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক।

তৃতীয় পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছে জেলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রতিবন্ধী সেবা ও কল্যাণ কেন্দ্র, পুরস্কার গ্রহণ করেছেন সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ও জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী।

মেলা উপলক্ষে জেলা ব্র্যান্ডিং সং-এর গীতিকার হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক মো. এমরান হোসেন। জেলা থিম সং-এর গীতিকার হিসেবে হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান।

এছাড়া মেলায় ব্যতিক্রর্মী স্টল স্থাপন করে সুস্বাদু পিঠা তৈরি ও বিক্রিতে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে জেলা মহিলা কল্যাণ কেন্দ্র, পুরস্কার গ্রহণ করেছেন জেলা মহিলা কল্যাণ কেন্দ্রের সভাপতি নাহিদ আফরোজ সুলাতানাসহ অন্যান্য নেত্রীরা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.