নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ জুলাই, ২০১৫
শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে আসামি মুহিত আলমের পর তার স্ত্রীকেও আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলা মির্জাপাড়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে স্ত্রী লিপি বেগমকে আটক করে পুলিশ।
জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় আরও তথ্য উদঘাটন করতে জিজ্ঞাসাবাদের লিপি বেগমকে আটক করা হয়েছে।”
গত বুধবার রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করার সময় মুহিতকে পুলিশে দেয় জনতা। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানালে তাতে সায় দেন সিলেটের মহানগর হাকিম ফারহানা ইয়াসমিন।
সোমবার সন্ধ্যা এই মামলার আরেক আসামী ও মহিতের ভাই কামরুলকে সৌদি আরবে আটক করে সেখানকার পুলিশ।
গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনের ভিডিও নির্যাতনকারীরা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর জালালাবাদ থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করে।
এই ঘটনায় আসামিদের মধ্যে শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে মুহিত (৩৫) ছাড়াও রয়েছেন তার ভাই কামরুল ইসলাম (২৪), তাদের সহযোগী আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না (৪৫)।
আসামিদের মধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে ইসমাইল হোসেন আবলুছ (২২) নামে একজনকে সোমবার আটক করেছে পুলিশ।
এই নির্যাতনে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেছেন, রাজনকে নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। রহমত উল্লাহ নিজেই এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
“গত রাত থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে,” বলেছেন তিনি।