Sylhet Today 24 PRINT

পূজার জন্য প্রস্তুত মৌলভীবাজারের ৯৯৬টি মণ্ডপ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ১৪ অক্টোবর, ২০১৮

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে মৌলভীবাজার ৯৯৬ টি পূজা মণ্ডপে।

আগামী ১৫ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। রকমারি আলোকসজ্জার বর্ণালী বাহারে সাজানো হচ্ছে পূজা মণ্ডপ ও তার আশপাশ এলাকা।  কারিগররা রাত-দিন চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সাজসজ্জার কাজ। সব মিলে উৎসবে আমেজে সাজতে যাচ্ছে জেলা প্রতিটি পূজা মণ্ডপ।  শেষ মুহূর্তে চলছে মণ্ডপ সাজসজ্জা সহ প্রতিমায় রঙ এবং সজ্জার কাজ ।

জেলার সাতটি উপজেলায় ব্যাপক ভাবে বিভিন্ন স্থায়ী মন্দিরে পাশাপাশি অস্থায়ী মন্দিরে চলছে সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণ।

জেলা পূজা উৎযাপন কমিটির তথ্য মতে এই বছর মৌলভীবাজারে ৯৯৬ টি মণ্ডপে সর্বজনীন ৮৪২টি এবং ১৫৪টি মণ্ডপে ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা হবে বলে জানা গেছে।

এরমধ্যে রাজনগরে সার্বজনীন ৭৬টি মণ্ডপ আর ব্যক্তিগত ৫৪টিতে বড়লেখায় সার্বজনীন ১৩৩টি আর ব্যক্তিগত ১৮টি, কুলাউড়ায় সার্বজনীন ১৯৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি, জুড়ীতে সার্বজনীন ৬৫টি আর ব্যক্তিগত ৩টি, মৌলভীবাজার সদরে সার্বজনীন ৮৪টি আর ব্যক্তিগত ২৩টি, শ্রীমঙ্গলে সার্বজনীন ১৫৪টি আর ব্যক্তিগত ১৩টি, কমলগঞ্জে সার্বজনীন ১৩৬টি আর ব্যক্তিগত ২০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মৌলভীবাজারে সব চেয়ে বেশী পূজা অনুষ্ঠিত হয় শ্রীমঙ্গলে, নানা আদলে তৈরি হয় পূজার প্রতিমা।

বাংলাদেশ পূজা উৎযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাশ জানান, আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।   ইতোমধ্যে দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। নির্বিঘ্নে যাতে শারদীয় দূর্গোৎসব পালিত হয় এই বিষয়ে আমরা পূজা উদযাপন পরিষদ কাজ করে যাচ্ছি।

তবে একক পূজার আকর্ষণের দিক থেকে এগিয়ে কুলাউড়ার কাদিপুর দুর্গা বাড়ী এবং  রাজনগরে পাঁচগাও দুর্গা বাড়ী। কুলাউড়া দুর্গাবাড়ীর মন্দির সিলেট বিভাগের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এবং সুন্দর হওয়ায় এবং রাজনগরে উপমহাদেশের একমাত্র লাল দুর্গা দেবীর পূজা হওয়াতে পূজার ৩ দিন এই দুই স্থানে এসে মিলিত হন সিলেট বিভাগের সব লাখো সনাতন ধর্মাবলম্বী। 

এছাড়াও শ্রীমঙ্গলের কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এমনিতেই সবার পূজার দেখার পূর্ণতা পায় শ্রীমঙ্গলে কারণ খুব কাছাকাছি অনেকগুলো মন্দির থাকায় দর্শনার্থীদের পূজা দেখতে সুবিধা হয় মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে।

জুড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমূল্য চন্দ্র দাস জানান, নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে সাড়ে ৩২ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা সফল করার লক্ষ্যে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সব কিছু মিলে এই বছর পূজা উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ রায় মুন্না জানান,  এ বছর দেবী পৃথিবীতে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে আর ফিরে যাবেন পালকিতে চড়ে।”

তবে লোকশ্রুতি আছে, “ঘোড়া দ্রুততার প্রতীক। অশ্ব শক্তি দেবী ঘোড়ায় চড়ে আসলে প্রকৃতি রুদ্র রূপ ধারণ করে। ঘূর্ণিঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। পালকিতে চড়ে কৈলাস গমনে রোগব্যাধি, জরা, মৃত্যু নেমে আসবে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল জানান, জেলায় শারদীয় দুর্গাপূজায় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রত্যেকটি পূজামণ্ডপসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.