Sylhet Today 24 PRINT

ভুয়া নাগরিক সনদে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবি

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি |  ১৪ অক্টোবর, ২০১৮

সিলেটের গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন ইউনিয়নে ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে ভোটার তালিকায় নিজেরদের নাম অন্তর্ভুক্তি করে ভোটার ও স্থায়ী নাগরিক সেজে গোয়াইনঘাটের কোটায় অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া দুই সহকারী শিক্ষক রাজমীন নাহার রুবা ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ভুয়া নাগরিক সনদে চাকরি নেয়া এই দুই নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষককে অবিলম্বে বহিষ্কার করা না হলে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন গোয়াইনঘাট উন্নয়ন সংসদসহ এই ঘটনায় প্রতিবাদমুখর সর্বস্তরের সচেতন মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায়ও সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া এসব 'প্রতারকদের' চাকরি থেকে বহিষ্কার ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

উপজেলার ৬নং ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী উপজেলা পরিষদের রেজ্যুলেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানালে একজন জনপ্রতিনিধি ছাড়া সকল জনপ্রতিনিধিরা এ দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। ৭ অক্টোবর আন্দোলনকারীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে এসব অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে তিনি তা গ্রহণ করে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সিলেট সার্কিট হাউসে গোয়াইনঘাট উন্নয়ন সংসদের পক্ষ থেকে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এম নিজাম উদ্দিন, উন্নয়ন সংসদ নেতা মাহফুজুল কিবরিয়া মাহফুজসহ সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বরাবরে অনুরূপ স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এদিকে জন্মসূত্রে গোয়াইনঘাট উপজেলার নাগরিক না হয়েও অবৈধ যোগসাজশে নাগরিক সনদ সংগ্রহ, নির্বাচন কমিশনকে ভুল তথ্য প্রদান করে স্থায়ী ঠিকানা গোপন রাখা, ভোটার সেজে নিয়োগ পাওয়া দুই শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান ও রাজমীন নাহার রুবার বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কমিটি গঠিত ৩ সদস্যের তৈরি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাকিমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেন তদন্ত কমিটি প্রধান পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস শহিদ।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সাধারণ জনগণ, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলাপ করে জানতে পারেন যে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা জন্মসূত্রে গোয়াইনঘাটের কোন ইউনিয়নের নাগরিক নয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম তদন্ত কমিটির কাছে গোয়াইনঘাট আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া রাজমীন নাহার রুবা পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের নাগরিক নন এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি নিয়েছেন মর্মে লিখিতভাবে বিষয়টি উত্তাপন করেন।

এছাড়াও পূর্ব জাফলং চৈলাখেল ৮ম খন্ড গ্রামে লুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া অপর সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান জন্মসূত্রে পূর্ব জাফলংয়ের চৈলাখেল ৮ম খন্ড গ্রামের নাগরিক নয় বলে তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জিলানী আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, ব্যবসায়ী হাজী হোসেন মিয়া, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা শিক্ষা কমিটি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস শহিদ জানান, আমরা সরেজমিনে গোয়াইনঘাটের কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত দুই সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যসহ সার্বিক তদন্তে আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে প্রতীয়মান হয় যে নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই শিক্ষক প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এখানকার নাগরিক, ভোটার সেজে এখানকার কোটায় চাকরি নিয়েছেন। তারা এখানকার স্থায়ী নাগরিক নয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করেছি।

গোয়াইনঘাট উন্নয়ন সংসদের সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জামাল উদ্দিন মাস্টার জানান, একটি পরিচ্ছন্ন আধুনিক গোয়াইনঘাট বিনির্মাণে আমরা সমবেত আছি। চাকরির ক্ষেত্রে গোয়াইনঘাটের কোটায় আর যেন বহিরাগতরা না ঢুকতে পারেন সেই লক্ষ্যেই আমাদের এ আন্দোলন। অবৈধ এসব সহকারী শিক্ষকদের অবিলম্বে বহিষ্কার না করলে লাগাতার কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.