Sylhet Today 24 PRINT

জনতার ক্ষোভ দেখলো ঘাতক : ময়নার গ্রেফতারের খবরে মধ্যরাতে মহাসড়কে হাজারো মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৫ জুলাই, ২০১৫

জনতার ক্ষোভ দেখলো ঘাতক ময়না। একটি শিশু জন্য অগণন মানুষের উদ্বেগ প্রত্যক্ষ করলো এই খুনি, আর প্রত্যক্ষ করলো তাদের প্রতি গণমানুষের ঘৃণা।

রাত তখন প্রায় ১১। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের টুকের বাজারে তখন হাজারো মানুষের ঢল। সমবেত জনতার কেউ কেউ উল্লাস করছেন, অনেকই আবার ফাঁসি, ফাঁসি বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

শিশু রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ময়নাকে গ্রেফতারের খবরে মধ্যরাতে রাজপথে নেমে এসেছেন তারা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেটের টুকের বাজারের পীরের বাজারের একটি বাড়ি থেকে দারোয়ান ময়নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই হাজারো জনতা জড়ো হন রাস্তায়। এসময় ফাঁসি ফাঁসি বলে গগনবিদারি চিৎকার করে ওঠে জনতা। অনেকে ময়নাকে মারতেও উদ্যত হন। অবস্থা বেগতিক দেখে অতিরিক্ত পুলিশ নেওয়া হয় ঘটনাস্থলে।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষুব্দ জনতাকে শান্ত করেন। পরে কড়া নিরাপত্তায় ময়নাকে নিয়ে যাওয়া হয় জালালাবাদ থানায়।

এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদেরই সহযোগিতায় ময়নাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান।

১৩ বছরের রাজনকে হত্যার ঘটনায় যে চারজনকে আসামি করে পুলিশ মামলা করেছে, তার মধ্যে ময়না (৪৫) রয়েছেন। তিনি কুমারগাঁও এলাকায় 'বড় ময়না' নামে পরিচিত।

নিহত রাজনের মামা ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ময়নার খারাপ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে  রাজনকে পেটানো হয় বলে তার দাবি। এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের মধ্যে আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪) এখনও পলাতক।

আসামিদের মধ্যে মুহিত আলমকে ঘটনার দিন ৮ জুলাই জনতা পুলিশে দিয়েছিল। তার ভাই কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে পালিয়ে গেলেও সেখানে ধরা পড়ছেন।

এছাড়া মুহিতের স্ত্রী ও শ্যালক এবং নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী দুজনকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সব আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রতি নির্দেশ রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের। পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হকও বলেছেন তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলামকে মঙ্গলবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসআই আমিনুল রাজন হত্যার মামলাটির বাদী।

গত বুধবার সকালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ১৩ বছরের রাজনকে। নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর ভিডিও ধারণ করে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপি প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.