মৌলভীবাজার প্রতিনিধি | ২৯ অক্টোবর, ২০১৮
সারা দেশে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত আছে পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্য। তাদের এই নৈরাজ্যের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও বরযাত্রীবাহী গাড়িও।
রোববার অ্যাম্বুলেন্স আটকানোর ফলে একটি শিশু মারা যাওয়ার পরে সোমবারও বিভিন্ন জায়গায় তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকাচ্ছে।
সোমবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের মোকামবাজারে একটি অসুস্থ শিশু রোগী বহনকারী একটি ভ্যান আটকিয়ে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় শিশুটির বাবা অনেক মিনতি করার পরেও তারা চাকার হাওয়া ছেড়ে দেয়।
এদিকে বিকেল ৩টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল থানার মিরপুরে ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে শ্রমিকরা। গাড়ীতে লাশ আছে জানার পরেও শ্রমিকরা তা আটকে রাখে। এক ঘন্টা পর সাংবাদিকসহ স্থানীয়দের অনুরোধে তারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুক আলী জানান, এইরকম কোন ঘটনার খবর আমরা পাইনি। মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ অবস্থান করছে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য।
বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল মতিগঞ্জে বরযাত্রীবাহী গাড়ির বহর আটকে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা।
সোমবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার মৌলভীবাজার সড়কের ৬নং পুলের সামনে দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক রিকশা আটকিয়ে রেখেছেন। রিকশাচালকদের কাছ থেকে ২০-৫০ টাকা চাঁদা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। পরে পুলিশের গাড়ি সেখানে গেলে শ্রমিকরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান।
রিকশাচালক জলিল মিয়া বলেন, মৌলভীবাজার সড়ক দিয়ে রিকশা চালিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে আসার সময় ৬ নম্বর পুলে আমার রিকশাটি আটকে রাখে এবং রিকশার হাওয়া ছেড়ে দিতে চায়। আমি বাধা দিলে তারা চাঁদা হিসেবে ৩০ টাকা চা খাওয়ার জন্য চায়। এরপর টাকা দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি সহসভাপতি সঞ্জিত কুমার দেব বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড, প্রশাসনিক গাড়ি, ঔষধের গাড়ি, বিদেশি পর্যটকদের গাড়ি আওতামুক্ত আছে। কেউ যদি এইসব গাড়ী আটকায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।