Sylhet Today 24 PRINT

শিল্পবর্জ্যে ব্যাহত হচ্ছে সিলেটের ফসল উৎপাদন

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

শিল্প বিমুখ হিসেবে পরিচিত সিলেটে গত কয়েকবছরে গড়ে উঠেছে বেশক’টি বড় শিল্পকারখানা। তবে এসব কারাখানায় উপেক্ষিত হচ্ছে পরিবেশের সুরক্ষা। বেশিরভাগ কারখানার পরিশোধন প্লান্ট না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে শিল্পবর্জ্য। এতে পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। সম্প্রতি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যমিশ্রিত পানির প্রভাবে সবজি উৎপাদনে সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনমুন সাহা, কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফুয়াদ মণ্ডল এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু রাশেদ মো. মওকিব ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সবজি ফসলের চারার মরণশীলতা ও বৃদ্ধির উপর শিল্পকারখানা হতে নির্গত ভারী ধাতব পদার্থের বিষক্রিয়া মূল্যায়ন’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট অঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে ওঠা এলাকাগুলো থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে এসব এলাকার পানিতে আয়রন, জিংক, নিকেলসহ অন্যান্য ভারি পদার্থ চাষের সহনীয় মাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান।

আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেচের পানিতে আয়রনের সহনীয় মাত্রা হলো প্রতি লিটারে ৫ মিলিগ্রাম, কিন্তু সিলেট অঞ্চলের বর্জ্য পানিতে আয়রনের মাত্রা প্রতি লিটারে ৮ মিলিগ্রাম। যা ফসল চাষের অনুপযোগী। এর ফলে ফসলের অঙ্কুরোদগম ও উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাসসহ মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামীর ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় শিল্পবর্জ্যে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হলেও বছরে কি পরিমাণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তা উল্লেখ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফুয়াদ মণ্ডল বলেন, আমরা কিছু এলাকা থেকে মাটি ও পানির নমুনা সংগ্রহ করে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা জানতে আরও বড় পরিসরে এ গবেষণা চালাতে হবে।

সিলেটের খাদিমের বিসিক শিল্প নগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার মাটি ও পানি সংগ্রহ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফসল উৎপাদন ব্যাহতসহ শিল্প কলকারখানার বর্জ্য থেকে মানবদেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য শিল্পকারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করলেই অনেকাংশে ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা তাদের অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নিকটবর্তী নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্নস্থানে অপরিকল্পিতভাবে অপসারণ করে। এসব বর্জ্যে পানির মধ্যে ভারি ধাতব পদার্থের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব ভারি ধাতব পদার্থ প্রতিনিয়ত নদী-নালা, খাল-বিলের সাথে মিশে প্রাকৃতিক ও জলজ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দূষিত করছে। সেচের পানিতে অতিমাত্রায় ধাতব পদার্থ বিদ্যমান থাকায় তা ফসলের উৎপাদন হ্রাস করার পাশাপাশি ফসলের ভক্ষণযোগ্য অংশে স্থানান্তরিত হয়ে মানবদেহে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করছে।

এই গবেষণার সাথে সহমত পোষণ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আলতাবুর রহমান বলেন, সিলেটের অনেক শিল্পকারখানায় বর্জ্য পরিশোধন করা হয় না। এসব তরল বর্জ্য কারখানার পার্শ্ববর্তী নদী-খাল বা কৃষি জমিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, শিল্পকারখানা করার ক্ষেত্রে বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (ইটিপি) করা বাধ্যতামূলক। অনেক কারখানায় প্লান্ট না থাকলেও তা কার্যকর নয়। তারা বর্জ্য নদী-খালে ছেড়ে দেন। আমরা এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছি। দ্রুত তাদের পরিশোধনাগার পূর্ণ কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছি। ইটিপি কার্যকর না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.