Sylhet Today 24 PRINT

সড়কের উপরই স্ট্যান্ড, শহরজুড়ে যানজট

হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল  |  ০২ নভেম্বর, ২০১৮

শ্রীমঙ্গলে দিনদিন বেড়েই চলচে যানজটের তীব্রতা। আয়তনে শহর যত বাড়ছে, দোকান ও গাড়ির চাপে রাস্তা তত সঙ্কীর্ণ হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের প্রবেশ পথ হবিগঞ্জ রোড। এদিক দিয়েই গিয়েছে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক।  হবিগঞ্জ রোড থেকে মৌলভীবাজার রোড পর্যন্ত রাস্তার দু’দিকে সারি সারি দোকান। অনেক জায়গায় রাস্তা দখল করে দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানের সামনে সাইকেল, মোটরসাইকেল, টমটম, রিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় চওড়া রাস্তাও ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছে। বড় গাড়ি, ছোট গাড়ির মাঝে আটকে পড়ছেন পথচারী। যার ফলশ্রুতি যানজট। রাস্তা পার হতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম অবস্থা সকলের।

মৌলভীবাজার জেলার একটি উপজেলা শ্রীমঙ্গল,শ্রীমঙ্গল শহরের বেশ কিছু এলাকায় সকাল থেকেই যানজট পাকিয়ে ওঠে। হবিগঞ্জ রোড ও মৌলভীবাজার রোডের সংযোগস্থল এর একটু আগে সেন্ট্রাল রোড ও নতুন বাজারে সকালে বড় বড় ট্রাকগুলো মাল নিয়ে শহরে প্রবেশ করে ঘণ্টাখানেক ধরে গাড়ী নিয়ে রাস্তাজুড়ে  দাড়িয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ বাদেই ওই এলাকায় একে একে বাজারের থলে হাতে মানুষের চলাচল শুরু হয়ে যায়। তারপর পথচারী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ভিড়। বেলা যত বাড়ে পথচারীদের চলাচল তত বেড়ে যায়। অফিস টাইমে রাস্তায় মানুষের ভিড় ও গাড়ির চাপ বেশ বেড়ে যায়। সিএনজি, টমটম, ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, ছোট ও বড় গাড়ি এবং বাসের আনাগোনায় রাস্তা পার হওয়া তখন দায় হয়ে ওঠে। বিশেষত হবিগঞ্জ রোড,মৌলভীবাজার রোড, নতুন বাজার,স্টেশন রোডে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ওই সময় রাস্তায় চলাচল করতে গিয়েও  চরম সমস্যার সম্মুখীন হন পথ চলতি সাধারণ মানুষ। বিশেষত বয়স্কদের কষ্ট বেড়ে যায়।

প্রশাসন সূত্রের খবর, শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা,বিয়ানীবাজার, ময়মনসিংহ, যশোর, পাবনা,নাটোর -সহ প্রায় ১৫-২০টি রুটের ২০০-র বেশি  বাস এখান থেকে যাতায়াত করে। এর সঙ্গে রয়েছে কিছু সরকারি বাস। হবিগঞ্জ রোড এবং মৌলভীবাজার রোডে  বাস দাঁড় করানো হয়। শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জ ও ঢাকায় যাওয়ার রাস্তার দু’ধারেই আবার রয়েছে ছোট গাড়ির স্ট্যান্ড। সিএনজি, টমটম, -সহ কয়েকশো গাড়ি শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ার অপেক্ষায় থাকে। হবিগঞ্জ রোড পুলের পাশে  প্রায় ২০০টি ছোট গাড়ি থাকে। একই ভাবে শহরের ভানুগাছ রোডের রেলওয়ের মাঠ ও রাস্তা জুড়ে রয়েছে প্রাইভেট কার,মাইক্রোবাস ও সিএনজির স্ট্যান্ড৷শমসেরনগরগামী বাস,জিপ ও লেগুনাগুলোও রাস্তার উপর গাড়ী রেখেই যাত্রী উঠানামা করায় ৷

শ্রীমঙ্গল শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা হল হবিগঞ্জ রোড ও মৌলভীবাজার রোড। এই দু’টি রোডের উপর দিয়ে শ্রীমঙ্গলের  যাতায়াতকারী বাসগুলো যায় ৷মৌলভীবাজার রোডে একদিকে বাসগুলি দাঁড়িয়ে থাকলেও হবিগঞ্জ রোডে রাস্তার উভয় দিকেই এবং রাস্তার উপরই থাকে বাসগুলি। তারই মধ্যে হবিগঞ্জ রোডে ছোট গাড়ির স্ট্যান্ড রয়েছে। রাস্তার উপরে এই ভাবে বাস, তার পাশাপাশি ছোট গাড়িও রাস্তার দু’পাশে থাকার ফলে প্রায় সময়ই যানজট লেগেই রয়েছে। এত বাস, ছোট গাড়ি যাতায়াত করলেও নেই বাসস্ট্যান্ড। নেই যাত্রী প্রতীক্ষালয়। দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষজনকে বাস ধরার জন্য মৌলভীবাজার রোড ও হবিগঞ্জ রোডে   দাঁড়িয়ে থাকতে হয়৷ হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রুপের একটি মাত্র যাত্রী ছাউনি আছে যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। শ্রীমঙ্গলের বাসিন্দা মৌলভীবাজার সরকারি  কলেজের ছাত্রী ইয়াসমিন বলেন, “বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার সময় প্রায় দিনই চৌমুহনা থেকে বাসে উঠতে হয় । চৌমুহনায় বাসের অপেক্ষায় বেশ কিছুক্ষণ রাস্তার ধারে বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একটুও বসার জায়গা নেই।”

একদিকে বাস, অন্য দিকে রাস্তায় এলোমেলো ভাবে বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড় যানজট আর কাটে না।মৌলভীবাজারগামী লোকাল বাসগুলোর দাড়ানোর জায়গার  পাশেই রয়েছে শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন অফিস। ষ্কুলের পাশ থেকে চিৎকার ও হাকডাকের মাধ্যমে যাত্রী উঠানোয় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ৷ মৌলভীবাজার রোডে অবস্থিত আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই শ্রীমঙ্গল থানার সীমানা প্রাচীর ঘেষে আঞ্চলিক মহাসড়কের উপরই বানানো হয়েছে একটি সিএনজি স্ট্যান্ড ৷

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় দিনই এই রাস্তায় বাস, সিএনজি, মটরসাইকেল, টমটম, রিক্সার সঙ্গে পথচারীর ভিড় লেগে থাকে। চৌমুহনা চত্বরে ট্রাফিক পুলিশ  থাকায় সাময়িক যানজট কমলেও পুরোপুরি কাটে না বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ঝলক দত্ত বলেন, “মাঝে মাঝে চৌমুহনায় এত যানজট হয় যে রাস্তা পার হতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। সব সময় ট্রাফিক পুলিশও থাকে না।”

 
কেন এই যানজট?

এলাকার বাসিন্দাদের মতে, রাস্তা সঙ্কীর্ণ হওয়াই যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। তাঁদের বক্তব্য, নামেই বাসস্ট্যান্ড, বাস রাখার জন্য নির্দিষ্ট কোনও জায়গা নেই। ছোট গাড়িরও স্ট্যান্ড নেই। বাধ্য হয়ে চালকরা রাস্তার যত্রতত্র গাড়ি রাখছেন। কিছু দোকানদারও রাস্তার উপরে মালপত্র সাজিয়ে বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছেন। এ ভাবেই হারাচ্ছে রাস্তা। অনেক সময় দোকানের সামনে গাড়ি রাখা নিয়ে বচসা বাধে দোকানিদের সঙ্গে।

হবিগঞ্জ মটর মালিক গ্রপের শ্রীমঙ্গল শাখার তত্ত্বাবধায়ক কামরুল হাসান দোলন বলেন, “ছোট গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ শহরে স্থায়ী স্ট্যান্ড নেই। তাই বাধ্য হয়ে চালকরা রাস্তার পাশেই গাড়ি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি জানান, হবিগঞ্জ রোড থেকে একটু দূরে সুরমাভ্যালীতে রাস্তার পাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে দিয়ে সেখানে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার প্রশাসন কে দেওয়া হয়েছে। তাতে কিছুটা সমস্যা মিটতে পারে। যানজট এড়াতে ছোটগাড়ি স্ট্যান্ডের সঙ্গে অবিলম্বে একটি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের দাবি উঠেছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের বাসিন্দা তথা হবিগঞ্জ রোডের ব্যবসায়ী পলাশ রায় বলেন, “একটা সুন্দর বাসস্ট্যান্ড হলে যানজট থেকে নিস্তার পাওয়া যেত। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যও বাড়ত। কিন্তু প্রশাসনের কোনও উদ্যোগই এখনও চোখে পড়েনি ৷ মৌলভীবাজার জেলার ট্রাফিক পরিদর্শক রুপম কুমার রায়  স্বীকার করেছেন, “বড় ও ছোট গাড়ির দু’টি স্ট্যান্ড তৈরি হলেই যানজটের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে। ওই দু’টি স্ট্যান্ড তৈরির দাবি আমরাও জানিয়েছি।

তিনি আরও জানান,"শহরের যানজট নিয়ন্ত্রনে আমরা নিয়মিত অবৈধ গাড়ী আটক করি তখন যানজট কিছুটা কমে কিন্তু আমাদেরও লোকবলের সংকট আছে৷তাছাড়া শহরের রাস্তার উপর দুটি বড় বাস স্ট্যান্ড ও দুটি সিএনজি স্ট্যান্ড থাকায় যান চলাচলে কিছুটা ধীরগতি চলে আসে ৷আর শহরের বড় বড় মার্কেটগুলোতে পর্যাপ্ত পার্কিং এর ব্যবস্থা না থাকাও যানজটের একটা প্রধান কারন"৷

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.