নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ জুলাই, ২০১৫
সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। ঈদের ছুটি কাটাতে জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, লালাখাল, পাংথুমাই, শ্রীপুরসহ সিলেটের প্রায় সকল পর্যটনকেন্দ্রেই ভিড় করেছেন হাজার হাজার পর্যটক। ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও পর্যটকদের এই আনোগানা আরো দু’একদিন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের ছুটি বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় দেশের মধ্যে সিলেটেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটছে বলে দাবি পর্যটন শিল্পের উদ্যোক্তাদের।
পাথর, বালি, নদী আর আর দুই পাহাড়কে জোড়া লাগানো ঝুলন্ত ব্রীজের জন্য বিখ্যাত জাফলং। তবে বষায় প্রকৃতিকন্যা হিসেবে খ্যাত জাফলং আর্ভিভূত হয় অন্যরুপে। পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে হেঁটে চলে সাদা সাদা মেঘ। অসংখ্য ঝর্ণা দিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে রাশি রাশি জল। এমন দৃষ্য চোখ জুড়াবে সকল মানুষেরই। তাই ভরা বর্ষায় এই ঈদের ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়েই পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।
ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসছেন প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদের পরদিন থেকে পর্যটকদের গাড়ি চাপে সিলেট-জাফলং সড়কে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট। জাফলংয়ে পিয়াইন নদী উপর ঝুলন্ত ব্রিজ, পাহাড় টিলা, পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে ভেসে ভেড়ানো মেঘ, আদিবাসি খাসিয়াপুঞ্জি, সমতল চা বাগান দেখতেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ পর্যটকদের।
একই অবস্থা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালেও। চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচে লালাখালের অবস্থান। সারি নদীর পান্না সবুজ জল, সবুজ পাহাড় আর চা বাগান দেখতে এখানে গত কয়েকদিন ধরে বিপুল সংখ্যক পর্যট ভিড় করেছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকদের সমাগম।
জল আর বনের মিশেলে জলার বন এই হলো রাতারগুল। অনেকে একে বাংলাদেশে আমাজনও বলে থাকেন। হাজারো পর্যটকদের কোলাহল গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র এই সোয়াম্প ফরেস্টের বণ্য নিস্তব্দতা এখন কেড়ে নিয়েছে। নাগরিক কোলাহল ফেলে কিছুক্ষণের জন্য নৌকায় চড়ে গহীন জঙ্গলের অজানায় হারিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকরা। পাংথুমাইয়ের ঝর্ণা দেখতেও প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক পর্যটকদের ভিড় জমছে। একই অবস্থা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরেও। হিজল-করচময় জনশূণ্যহীন হাওরও এখন পরিণত হয়েছে মিনি বাজারে।
সিলেটে এবার পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি ভিড় বিছানকান্দিতে। পাহাড়, ঝর্ণা, পাথর, সবুজ এই সব মিলিয়ে বিছানাকান্দির স্বর্গীয় সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢল নেমেছে পর্যটকদের । বিছনাকান্দির ঝর্ণার জলে গা ভিজিয়ে নাগরিক ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন পর্যটকরা।
রবিবার দুপুরে জাফলংয়ে ঝুলন্ত ব্রিজের কাছে কথা হয় নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে স্ব পরিবারে ঘুরতে আসা আবদুর রশিদ মোল্লার সাথে। তিনি বলেন, আগে শীথ মৌসুমে জাফলংয়ে এসেছি। এবার আসলাম বর্ষায়। বর্ষায় জাফলংয়ের আসল সৌন্দর্যের দেখা মিলে। মনে হচ্ছে যেনো জাফলং নয়, শিলং বা দার্জিলিংয়ে এসেছি। তিনি বলেন, এখানে পর্যটকদের গাইড করার মতো কিছু না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে এই সুযোগে পয়সাও বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে।
রাতাগুলে বেড়াতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, এতো সুন্দর একটি জায়গা আমাদের দেশে আছে বেশিরভাগ মানুষই তা জানে না। তিনি বলেন, কাল টাঙ্গুয়া গিয়েছিলাম। কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাটা উন্নত করে এই টাঙ্গয়ার ছবি যদি দেশের বাইরে প্রচার করা যায় তাহলে হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক টাঙ্গুয়ায় ছুটে আসবে। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য, আমরা আমাদের যা কিছু সুন্দর তা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারছি না। আমরা নিজেরাও এসবের খোঁজ করছি না।
পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, এবার ঈদে সিলেটে প্রচুর সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটেছে। বিশেষত জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি ও লালাখালে তো মানুষের ভিড়ে হাটারও জায়গা নেই। তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে ঈদ হওয়ায় সিলেটে পর্যটর সমাগম বেশি হয়েছে। কারন বর্ষার রুপ দেখার জন্য বাংলাদেশের সবচেয়ে শ্রেষ্ট স্থান হচ্ছে সিলেট।
বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের সদস্য ও জাকারিয়া রিসোর্টের সত্ত্বাধিকারী ডা. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, দেশের অনান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর তুলনায় সিলেটের আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার সিলেটে সর্বাধিক পর্যটক সমাগম ঘটেছে। বর্ষা মৌসুমে সিলেটের নদী, পাহাড়, বন এক অপরুপ সৌন্দর্য ধারন করে। এছাড়া সিলেট দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিবহুল অঞ্চলও একারনে এ মৌসুমে সিলেটে সর্বাধিক পর্যটক সমাগম ঘটে।