Sylhet Today 24 PRINT

রথমেলায় পুলিশ প্রহরায় জুয়ার আসর, নেপথ্যে আ. লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২১ জুলাই, ২০১৫

চলছে জুয়ার আসর। পাশেই বসে আছে পুলিশ। যেনো জুয়ার আসরকেই পাহারা দিচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে রিকাবীবাজারে চলমান রথমেলা থেকে তোলা

সামনে বিভিন্ন খেলনার স্টল। ঠিক পাশে বসে আছে পুলিশ। আর স্টলের পেছনে পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে আরো কয়েকটি স্টল। এই স্টলগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার আসর। প্রতিদিন জুয়ার আসর বসিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই স্টলগুলোর সামনেই সিলেট জেলা পুলিশ লাইন কার্যালয়। পুলিশের সামনেই চলছে এমন অবাদ জুয়ার আসর।

সাংবাদিক পরিচয়ে যে কেউ গেলে তাদের হাতে গুজে দেওয়া হয় টাকা। সকাল ১০ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে জুয়ার আসর।

এ চিত্র সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের রথ মেলার। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে মেলায় জুয়ার আসর বন্ধ করে আসে। বিকালে আবার জুয়ার আসর বসে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার পুলিশ লাইন স্কুল সংলগ্ন অংশে বিভিন্ন স্টল ভাড়া নিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে জুয়ার আসর বসিয়েছে একটি চক্র। বেশ কয়েকটি স্টলে চলছে এসব খেলা। জুয়ার আসরের স্টলগুলো কালোকাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। কাপড়ে ঘেরা জায়গায় চলছে নানা রকমের জুয়া খেলা। দিনদুপুরে চলছে এসব কর্মকান্ড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলা আয়োজনের পেছনে রয়েছেন সরকার দলীয় কিছু নেতা। তাদের প্রচ্ছন্ন মদদে মেলায় ছড়ি ঘুরাচ্ছেন ছাত্রলীগ নামধারী কিছু যুবক। প্রতিদিন এক হাজার টাকার বিনিময়ে তারা দেখভাল করেন মেলার সকল কার্যক্রম। গত ১৮ জুলাই থেকে শুরু হয় নগরীর রিকাবীবাজার পুলিশ কার্যালয়ের সামনে এ রথ মেলা। চলবে ২৬ জুলাই পর্যন্ত। সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে মেলা লিজ নেয় মাহির এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। নগরীর ভাতালিয়া এলাকার কয়েস আহমদ মেলা লিজ নেন।

এ ব্যাপারে মাহির এন্টারপ্রাইজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে নিজের নাম মতচ্ছির জানিয়ে এক ব্যক্তি জানান, তিনি মেলা কমিটির মানুষ। এ মেলা আয়োজন করতে তাদের ১৬ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। বিস্তারিত জানতে হলে অফিসে আসার আহবান জানিয়ে মোবাইল ফোনটি রেখে দেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এক কাউন্সিলরের ভাই ও আরেক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই মেলা পরিচালনা করছেন। মিডিয়া এবং পুলিশ ম্যানেজ করার দায়িত্বে রয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। এভাবেই চলছে সিটি করপোরেশনের লিজের শর্ত ভঙ্গ করে জুয়ার আসর। ভাগ্য লটারীর নামে জুয়ার আসরে শিশু ও কিশোরদেরও দেখা মিলে।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, প্রথম টেন্ডারে দাম কম হওয়ায় রি টেন্ডার করা হয়েছে। রি টেন্ডারে ৯ লাখ ৩০ হাজার উঠায় মাহির এন্টার প্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইজারায় এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার ভেতরে মেলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ড না করার জন্য শর্তে উল্লেখ রয়েছে। কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে বলে জানান তিনি। মেলায় কেউ অনেতিক কর্মকান্ড করছে কি না সেটি তার জানা নেই বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, আমরা জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগ শুনেছি। দুপুরে আমরা জুয়ার আসর ভেঙ্গে দিয়েছি বলে ওসি জানান।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের আহবায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন মেলায় আগের সে আবহ নেই। টেন্ডার দিয়ে মেলা দেওয়ায় পুরোপুরি বানিজ্যিক হয়ে গেছে। টেন্ডার না দিয়ে অতীতের মত ‘ওপেন’ রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, তখন এ ধরনের অপরাধ হবে না। তিনি বলেন, যারা লিজ নেয় তাদের টাকা ্উঠানোর একটা প্রবণতা থাকে। আর সেটি উঠাতে গিয়ে অনেকেই নানা অপরাধের জন্ম দিয়ে থাকে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.