Sylhet Today 24 PRINT

হামলা-ভাংচুরে বাড়ছে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮

সম্প্রীতির অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি আছে সিলেটের। রাজনৈতিক সহাবস্থানের জন্য দেশের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই জনপদের খ্যাতি আছে। তবে এবারের নির্বাচনে এই সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিনে সিলেট ও মৌলভীবাজারে দুটি হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা বাড়িয়েছে এ শঙ্কা। নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা থেকে নিরাপত্তা চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

এদিকে, সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেনের অভিযোগ, তাঁর টানানো পোস্টার রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে, এ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অভিযোগ, পুলিশ বিনা মামলায় তাঁর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে।

তবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো এখনো কিছু ঘটে নি মন্তব্য করে পুলিশের সিলট রেঞ্জের উপ মহা-পরিদর্শক (ডিআইজি) কামরুল আহসান বলেছেন, দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। তবে আতংকিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতির তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য সকল সময়ের চাইতে এবারের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি অনেক শান্তিপূর্ণ। সিলেটে এখনো বড় ধরণের সংঘাত সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

রোববার রাতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় হামলার শিকার হন সিলেট-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম। একই রাতে মৌলভীবাজার-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী এম এম শাহীনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এতে আহত হন ৫ জন।

 রোববার রাতের হামলার ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর জানান, রোববার রাতে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দুইটি গাড়ি নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন বিএনপির প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিম। নওয়াগাও মসজিদের সামনে তাঁর গাড়ি আসার পরই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গাড়ি লক্ষ্য করে ইটা পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে গাড়ির গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাই এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার পর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি মিছিল করে।

তবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের বিরোধের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। তবে সোমবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ ইমরান আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী হামলা চালায়নি। তাদের অভ্যন্তরীন বিরোধের কারণে হামলা হতে পারে।

এদিকে, রোববার রাতেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ডুলিপাড়ায় মৌলভীবাজার-২ আসনে মহাজোটের প্রার্থী বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএম শাহীনের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ হামলায় তাঁর পাঁচজন সমর্থক আহত হন।

এমএম শাহীনের অভিযোগ, বিএনপির লোকজনই এ হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে।
 
তবে কুলাউড়া থানার এএসআই মহিন উদ্দিন বলেন, হামলা ও ভাঙচুরকারীদের এখনো সনাক্ত করা যায়নি।

এদিকে, নিজের জীবনের ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবরে চিঠি দিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী৷

সোমবার সকালে পাঠানো এই চিঠিতে তিনি লিখেন, নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, আমার পোস্টার ছিঁড়ে একই স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার লাগানো হচ্ছে৷

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী বিভিন্ন সভায় হামলা ও ভাংচুর করা হচ্ছে, নেতাকর্মীদের হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে৷ তাঁর নির্বাচনী সভার আশেপাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে৷

স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, আমার দলীয় নেতীকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করছে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তোফায়েল ইসলাম বলেন, মুজিবুর রহমান সাহেব আমার অফিসে একটি চিঠি দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে সেটি এখনো আমার হাতে এসে পৌঁছেনি।

এদিকে, রোববার নিজ নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে ঢাকায় যান হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বের হয়, নিরাপত্তার অভাবে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া এলাকা ছেড়ে গেছেন।

তবে সোমবার ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছাড়ার খবর সত্য নয়। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণায় অংশ নিতেই আমি রোববার ঢাকায় আসি।

এদিকে, সোমবার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় সিলেট-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. একে আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেন, আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। রাতের পোস্টার টানালে সকালে তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আর এই আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির রোববার সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের কোনো মামলা-পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। গত তিনদিনে ২২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন তিনি।

এসব ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে সবসময় একটি সম্প্রতি রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বেশ পুরনো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই সম্প্রীতি নষ্ট করা ঠিক হবে না। এটি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.