বড়লেখা প্রতিনিধি | ২৫ জুলাই, ২০১৫
মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাহাড়ের চূড়ায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের দশ হাজার মানুষ। এ উপজেলায় ১০/১২দিন ধরে একাধারে বৃষ্টির কারণে পাহাড় চূড়ার অনেক বসত ঘরের আশপাশের মাটি ধ্বসে গেছে। এতে যে কোন সময় প্রাণহানী সহ বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দূর্গম পাহাড়ী এলাকা বোবারতলের পাহাড় চুড়ায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে সবচেয়ে বেশি মানুষ।
এর আগে গত বছরে শাহবাজপুর চা বাগানে পাহাড় ধ্বসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।
এদিকে ১০/১২দিন ধরে একাধারে বৃষ্টির কারণে গত রবিবার (১৯ জুলাই) রাত এগারোটার দিকে বোবারতলে পাহাড়ের চূড়ার আব্দুল হাছিবের একটি বসত ঘর রাতে মাটির ভিতর ঢুকে যায়। রাতের খাবারের জন্য জেগে থাকায় এসময় আব্দুল হাছিব সহ পরিবারের পাঁচ সদস্য ঘর থেকে বাহিরে চলে আসলেও ছয়মাসের শিশুর সন্তান জহিরুল ইসলাম মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা প্রায় দশ মিনিট পর মাটির নীচ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসা হলে ও শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাটির চাপায় শিশুটির একটি হাত ভেঙ্গে গেছে।
আব্দুল হাছিব জানান, রাতের খাবারের জন্য জেগে না থাকলে বড় ধরনের মর্মান্তিক র্দূঘটনা ঘটে যেতে পারত। আমার ছয় মাসের শিশু সন্তান সহ অলৌকিক ভাবে গেছি। বর্তমানের অন্যের বাড়িতে বসবাস করছি।
এ ঘটনার পরও পাহাড়ী চূড়ায় বসবাসকারী লোকজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। এলাকার বাসিন্দা ফখর উদ্দিন, তাজ উদ্দিন, এনাম আহমদ সহ অনেকে জানান, ‘বোবারতল এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় বিভিন্ন ঘরের আশপাশে টিলা ধ্বসে গেছে। বিকল্প থাকার জায়গা না থাকায় অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। মুষলধারের বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে প্রশাসন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরণের র্দূঘটনার আশংকা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতিপূর্বে জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণকে নিয়ে সচেতনতা মূলক কর্মশালা করা হয়েছে। জনসাধারণের সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হবে। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অন্যত্র শরীয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।