ছাতক প্রতিনিধি | ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছাতক পৌর এলাকার ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, "বিএনপির কোনো নেতাকর্মী রাস্তায় বের হতে পারছে না। সকালে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আসা কেন্দ্রের নিয়োগকৃত প্রায় ২০ জন এজেন্ট ও শতাধিক নেতাকর্মীকে কোনো মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমার বড় ভাই কুতুবুর রহমান চৌধুরী সিলেটের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তাকেও আমার বাসার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।"
এসময় তিনি ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমানের অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, "ছাতক থানার ওসি সব রকমের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে শুক্রবার লিখিতভাবে অভিযোগ করব।"
তিনি বলেন, "এত কিছুর পরও ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার থামানো যাচ্ছে না। তাই শেষ দিকে এসে বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল শাষকদল। একে একে গ্রেপ্তার চালাচ্ছে তারা। ব্যবসায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান, সাবেক চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবকদলের নেতা থেকে কর্মী পর্যন্ত কেউ বাদ যাচ্ছে না তাদের গ্রেপ্তারের হাত থেকে।"
এ পর্যন্ত শতাধিক নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান চৌধুরী নিজেও গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে আছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
তিনি বলেন, "বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্বাচনী এলাকার প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি সবার প্রতি আহবান জানাই যদি আমিও গ্রেপ্তার হই, হাল ছেড়ে দেবেন না। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলন থেকে আমরা পিছপা হবো না।"
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ভোটের দিন বিদেশি পর্যবেক্ষক, দেশী পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের বিশেষ নজরদারি রাখতে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, "এখন মনে হচ্ছে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয়, আওয়ামী লীগ অনেক আগেই পরাজিত হয়ে গেছে। পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। তাই মনে হচ্ছে মাঠে পুলিশিই আমাদের প্রতিপক্ষ।"
মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রজাতন্ত্রের বাহিনীর কাছে জনগণের ভোটাধিকার হরণ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "পুলিশসহ প্রশাসনের প্রতি আমার সর্বশেষ আহ্বান, গণরায়ের বিপক্ষে যাবেন না। আপনারা কোনো দলের নন, জনগণের। এই ভরসা প্রতিষ্ঠা করুন। নইলে সবার আগে বিপদ পড়বেন আপনারাই। কারণ, ৩০ ডিসেম্বরের পর আওয়ামী লীগকে আর খোঁজে পাবেন না। তখন আপনাদেরই এলাকায় থাকতে হবে। এই থাকাটা নিরাপদ করুন। জনগণ আপনাদের পাশে থাকবে।"
সংবাদ সম্মেলনে ছাতক ও দোয়রাবাজার উপজেলার বিএনপি, সহযোগী সংগঠন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতারাসহ ছাতক ও দোয়ারা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।